বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে অপপ্রচার: কঠোর সতর্কবার্তা আইএসপিআর-এর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে অপপ্রচার: কঠোর সতর্কবার্তা আইএসপিআর-এর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে অপপ্রচার: কঠোর সতর্কবার্তা আইএসপিআর-এর..
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে অপপ্রচার: কঠোর সতর্কবার্তা আইএসপিআর-এর..
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।..

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অপপ্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশবাসীকে সতর্ক করেছে। সেনাবাহিনী দেশের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান, আর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জড়িয়ে এ ধরনের মনগড়া তথ্য ছড়ানোর মূল লক্ষ্য হলো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। মূলত দেশের স্থিতিশীলতাকে অস্থিতিশীল করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সাইবার স্পেসে এই ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরেই সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড নিয়ে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী মহল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই, বরং এগুলো নিছক প্রপাগান্ডা যা সাধারণ মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থার জায়গায় ফাটল ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আইএসপিআর স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য এবং পেশাদারত্বের ওপর ভিত্তি করে সুদৃঢ় চেইন অব কমান্ড মেনে পরিচালিত হয়। ভিত্তিহীন এসব তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাহানির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের পরিকল্পিত গুজব ছড়ানো সাইবার অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। আইএসপিআর-এর বিজ্ঞপ্তিতে পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান সম্পর্কিত যেকোনো তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক ও নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। কোনো ধরনের অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানির দুঃসাহস না দেখায়।

পরিশেষে, ডিজিটাল যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জড়িয়ে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি অশনিসংকেত। যদি এই অপপ্রচারের উৎসগুলো দ্রুত খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে জনমনে বিভ্রান্তি বাড়বে এবং দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই গুজব প্রতিরোধে সরকারি নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাই হবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রধান পদক্ষেপ।

Nema komentara


News Card Generator