বাগেরহাটে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাগেরহাটে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর..

রবি ডাকুয়া avatar   
রবি ডাকুয়া
বাগেরহাটে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর..
বাগেরহাটে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর..
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটে চিকিৎসাসেবার নামে অপেশাদার ব্যবসা এবং অনিয়মের অভিযোগে সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।..

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক এক জরুরি মতবিনিময় সভায় জেলার স্বাস্থ্যখাতে চলমান বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে সরাসরি নির্দেশ প্রদান করেন যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলার সকল অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চিহ্নিত করে সেগুলো সিলগালা করা হয়। গত ১০ অক্টোবর আয়োজিত এই সভায় প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, চিকিৎসাসেবার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলার সুযোগ নেই। মূলত স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি অসাধু চক্রের লাগামহীন মুনাফালোভী কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি এই প্রশাসনিক কঠোরতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা জনস্বার্থ রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন ক্লিনিক গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগী মহলের। রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং ভুল চিকিৎসার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক প্রতিষ্ঠানেরই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, অথচ তারা সাধারণ মানুষকে উন্নত সেবার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারিত করছে। ভুক্তভোগীদের মতে, সঠিক নজরদারির অভাবে এসব প্রতিষ্ঠান অবাধে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ যদি পেশাদারিত্বের সাথে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সেবা প্রদান করে তবে তাতে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু যারা শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনকে লক্ষ্য করে অপেশাদারভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।

প্রতিমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সভায় বাগেরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দারসহ জেলা পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে ডেঙ্গু মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসন এখন মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের বৈধতা অর্জনের ন্যূনতম যোগ্যতা নেই, সেগুলোকে অবিলম্বে বন্ধ করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না পারে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

বাগেরহাটের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতে এই প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলায় যখন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বয় জরুরি, তখন অনিবন্ধিত ক্লিনিকগুলোর অকার্যকর ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর হুঁশিয়ারি কেবল অবৈধ ক্লিনিকগুলোর জন্যই সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করার এই উদ্যোগ সফল হলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক ধরনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator