দিল্লিতে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ: 'তেলাপোকা' গ্রুপের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক আটক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিল্লিতে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ: 'তেলাপোকা' গ্রুপের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক আটক..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
দিল্লিতে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ: 'তেলাপোকা' গ্রুপের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক আটক..
দিল্লিতে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ: 'তেলাপোকা' গ্রুপের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক আটক..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সংস্কারের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে 'তেলাপোকা জনতা পার্টি' (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকেসহ শতাধিক কর্মীকে আটক করেছে পু..

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিল্লিতে বিক্ষোভ করার সময় 'তেলাপোকা জনতা পার্টি' (সিজেপি)-এর শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পরপরই দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে নিরাপত্তা বাহিনী হেফাজতে নেয়। সিজেপি মূলত নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের লক্ষ্যে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। বিক্ষোভ শুরুর আগেই দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে এবং মেট্রো স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনকারীদের বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালায়, যা শহরজুড়ে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

আটক হওয়া বিক্ষোভকারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের এই ধরপাকড়কে গণতান্ত্রিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার পথে আটক হওয়া সাবিকা মুজাফফরসহ অনেক আন্দোলনকারীই পুলিশের কঠোর আচরণের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবিকা বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে তারা দেশের গণতন্ত্র রক্ষার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন, কিন্তু পুলিশি হুমকির কারণে এখন তাদের আইনজীবীদের নম্বর মুখস্থ রাখতে হচ্ছে। এদিকে, দলটির নতুন মনোনীত নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে পুলিশ বাধা দেবে সেখানেই যেন তারা নতুন করে যন্তর মন্তর গড়ে তোলে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে বর্তমান নির্বাচন কমিশন শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) স্বার্থ রক্ষা করছে এবং পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই আটকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়াকে একটি নিয়মিত এবং স্বচ্ছ অনুশীলন হিসেবে দাবি করে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর আনা কারচুপির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা কেবল সিজেপি নয়, বরং বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। সরকারি জবাবদিহিতার অভাব এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বেকারত্ব ইস্যুতে সিজেপির এই উত্থান বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে আসন্ন রাজ্য নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে।

দিল্লিতে এই ধরপাকড় এবং বিক্ষোভ দমনের ঘটনা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক গভীর প্রভাব ফেলছে। ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং কঠোর পুলিশি উপস্থিতির মাধ্যমে আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার প্রয়াস সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনে স্থবিরতা তৈরি করেছে। সিজেপি নেতৃবৃন্দের দাবি, কারাবাস বা হুমকির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যদি নির্বাচনী সংস্কারের দাবিগুলো নিয়ে দ্রুত আলোচনার পথ উন্মুক্ত না হয় এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে এই অসন্তোষ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করবে।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator