শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন এসব তথ্য জানান। এর আগে ভোরে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন:
১. ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), সাং- বক্তারপুর
২. মো. রিয়াজ সরদার (২৩), সাং- বক্তারপুর
৩. মো. শরীফ (২৭), সাং- সমেসপুর (সকলের বাড়ি দাদশী ইউনিয়ন, রাজবাড়ী সদর)।
ঘটনার পটভূমি ও উদ্ধার অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোনে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন রোহান। পরদিন ৬ অক্টোবর তার পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর গত ৮ অক্টোবর বিকেলে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রোহানকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে লাশ যেন সহজে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং আলামত নষ্ট করতে বস্তাবন্দি করে ডোবার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত ফিরোজ সরদার বাবুর ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা, রিয়াজ সরদারের ঘর থেকে একটি কালো টি-শার্ট এবং বক্তারপুর এলাকার একটি পুকুরের কচুরিপানার ভেতর থেকে রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল জব্দ করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।