শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সরজমিনে শহরের প্রধান চত্বরটিতে এমন চিত্র দেখা যায়।
নির্বাচনী প্রচারণা ও স্তম্ভ ঢেকে যাওয়ার ঘটনা
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর–রুহিয়া–ভূল্লী) আসনটি শূন্য ঘোষিত হওয়ায় আগামী ২৯ অক্টোবর এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার আসনটির রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিলে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা প্রথমে গোলচত্বরে ব্যানার টাঙালে স্মৃতিস্তম্ভটির একাংশ আড়াল হয়। পরবর্তীতে জামায়াতের কর্মীরা সেখানে বড় বড় বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করায় স্তম্ভটির প্রায় পুরো অংশই ঢাকা পড়ে যায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আহছানুল হাবিব বলেন, “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ একটি ঐতিহাসিক চেতনার প্রতীক। যাঁরা এটি ঢেকে দিয়েছেন, তাঁদের সতর্ক হওয়া উচিত।” স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হায়াত হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “যে জুলাই অভ্যুত্থানের জন্য আমরা আজ স্বাধীনভাবে ভোটের সুযোগ পেলাম, সেই স্মৃতিস্তম্ভটাই আমরা ব্যানার দিয়ে ঢেকে দিলাম! এতে বোঝায় যায়—জুলাই বিপ্লব আমাদের মুখে থাকলেও আসলে বুকে নেই।”
রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আহমেদুর রহমান জানান, প্রচারণার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা না বুঝে ব্যানার টাঙিয়েছেন। তবে জামায়াত পুরো ফাঁকা জায়গা ঢেকে ফেলায় সমস্যা প্রকট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ শাহজালাল জুয়েল জানান, স্থান সংকটের কারণে কর্মীরা ব্যানার দিয়েছেন, তবে শহীদদের প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। অন্য দলগুলো ব্যানার সরালে তারাও অবিলম্বে ব্যানার-বিলবোর্ড সরিয়ে নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে কোনো ব্যানার-বিলবোর্ড থেকে থাকলে তা অবিলম্বে সরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।