দিল্লিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা: সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ বিরোধী নেতাদের গণগ্রেফতার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিল্লিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা: সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ বিরোধী নেতাদের গণগ্রেফতার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দিল্লিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা: সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ বিরোধী নেতাদের গণগ্রেফতার..
দিল্লিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা: সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ বিরোধী নেতাদের গণগ্রেফতার..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রাক্কালে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের আটক কর..

শনিবার সকালে দিল্লির যন্তর মন্তর রোড সংলগ্ন কেরালা হাউসের সামনে থেকে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রাক্কালে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। একই দিনে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অজুহাতে দিল্লি পুলিশের একটি বিশাল দল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করেছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, অভিজিৎ দীপককে মুম্বাই থেকে আসা একটি এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের ভেতর থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সাথে, এই বিক্ষোভের সাথে সংহতি জানাতে জার্মানি থেকে আসা জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬-এর বাসভবন থেকে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল আটক করে নিয়ে যায়।

রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হওয়া সিজেপি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করতেই সরকার এই পরিকল্পিত ধরপাকড় চালাচ্ছে। আটককৃতদের মধ্যে অন্যতম, সিজেপির আইন বিভাগের প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, বিক্ষোভ শুরুর আগেই তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী রাজনৈতিক কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের ভেতর থেকে রাজনৈতিক নেতাকে আটক করার ঘটনাটি জনমনে ভীতি সঞ্চার করেছে এবং সাধারণ মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। রুট ডাইনামিক্স এবং নিরাপত্তা বলয় ভেঙে যেভাবে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের নিজ বাসা ও বিমান থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, তা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক চরম ও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই ধরপাকড়কে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার একটি অংশ হিসেবে দাবি করা হলেও এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে বিরোধী পক্ষগুলো এই ঘটনাকে অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছে। বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান এবং বিরোধী নেতাদের একের পর এক আটকের ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রশাসনের এমন একতরফা ভূমিকা সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থী এবং এটি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থা তৈরি করতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আটকদের মুক্তি না দিলে আন্দোলনের রূপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পরিশেষে, রাজধানী দিল্লির এই ধরপাকড় কেবল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিপাকেই ফেলেনি, বরং দেশটির মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এ ধরনের পুলিশি তৎপরতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং নাগরিক স্বাধীনতার সুরক্ষা বজায় রাখতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, অন্যথায় এই দমন-পীড়ন দীর্ঘমেয়াদে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator