অভিজিৎ দীপকে-ধ্রুব রাঠির পর এবার রত্না সিং আটক | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অভিজিৎ দীপকে-ধ্রুব রাঠির পর এবার রত্না সিং আটক

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
অভিজিৎ দীপকে-ধ্রুব রাঠির পর এবার রত্না সিং আটক
অভিজিৎ দীপকে-ধ্রুব রাঠির পর এবার রত্না সিং আটক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রাক্কালে ককরোচ জনতা পার্টির আইনি প্রধান রত্না সিং ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে পুলিশ।..

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতিকালে ককরোচ জনতা পার্টির আইনি দলের প্রধান রত্না সিংকে তার গাড়ির ভেতর অবরুদ্ধ করে আটক করা হয়। একই সময়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকেও দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে। মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এই আটকের পেছনে নিরাপত্তা জনিত কারণ দেখানো হলেও, সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি নোটিশ বা পরোয়ানা প্রদর্শন ছাড়াই শীর্ষ এই রাজনৈতিক নেতাদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী রত্না সিংয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকালে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য তার বাসভবন ঘিরে ফেলে এবং তাকে গৃহবন্দী করার চেষ্টা চালায়। কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেখাতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাকে সেখান থেকে কোথাও যেতে বাধা দেয় এবং দীর্ঘ সময় গাড়িতে আটকে রাখে। রত্না সিং জানান, প্রায় ২৫ জনের অধিক পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে রেখেছিল এবং ওপর থেকে নির্দেশ আসার অজুহাতে তাকে হেনস্তা করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির ক্ষেত্রেও, যাকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকা থেকে আটক করা হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার জন্য পুলিশ তাকে আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। রাজনৈতিক কর্মীদের দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চাকে দমনের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই আটকের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি, তবে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তার খাতিরেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের আইনি ভিত্তি ছাড়াই তাদের নেতাদের আটক করা হয়েছে, যা মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলমান এই বিতর্ক এবং বিরোধী মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান ভারতের গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এভাবে রাজনৈতিক নেতাদের আটক করা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনাটির স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে।

রাজনৈতিক নেতাদের এমন ধারাবাহিক আটকের ঘটনা ভবিষ্যতে দেশটির বিরোধী দলগুলোর কর্মপরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং অন্যদিকে প্রশাসনের কঠোর দমননীতি—এই দুইয়ের সংঘাত ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে। নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার এই সংকট ভবিষ্যতে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের মধ্যকার আস্থার সংকটকে আরও গভীর করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Walang nakitang komento


News Card Generator