এক যুগেও সচল হয়নি জাজিরা ট্রমা সেন্টার: অবহেলায় ধুঁকছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

এক যুগেও সচল হয়নি জাজিরা ট্রমা সেন্টার: অবহেলায় ধুঁকছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
এক যুগেও সচল হয়নি জাজিরা ট্রমা সেন্টার: অবহেলায় ধুঁকছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা..
এক যুগেও সচল হয়নি জাজিরা ট্রমা সেন্টার: অবহেলায় ধুঁকছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা..
ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টারটি অবকাঠামো নির্মাণের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে চালু হয়নি, যার ফলে পদ্মা সেতু সংলগ্ন মহাসড়কের দুর্ঘটনায় আহতরা জীবনঝুঁকির..

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নির্মিত ১৫ শয্যার ট্রমা সেন্টারটি দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আজও আলোর মুখ দেখেনি। পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক ও সংলগ্ন মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটা সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি জীবনরক্ষাকারী সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই বিশেষায়িত ইউনিটটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। চারতলা ভবনের নিচতলায় রিসাসিটেশন কক্ষ, এক্স-রে, অপারেশন থিয়েটারসহ আধুনিক চিকিৎসার সব ধরনের অবকাঠামোগত ব্যবস্থা থাকার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম সংকটে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। ফলে মহাসড়কে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক প্রাথমিক সেবা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং তাদের বাধ্য হয়ে ঢাকায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জাজিরা ট্রমা সেন্টারটি বর্তমানে কেবল একটি নামসর্বস্ব অবকাঠামোয় পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রমা সেন্টারের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলোতে এখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য সাধারণ কার্যক্রম চলছে। রিসাসিটেশনের জন্য বরাদ্দ কক্ষটি স্টোররুম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে অব্যবহৃত মোটরসাইকেল রাখা হয়েছে। একইভাবে অবজারভেশন কক্ষটি পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং অপারেশন থিয়েটারটি দীর্ঘ সময় ধরে তালাবদ্ধ ও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পাশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবার এই করুণ দশা অগ্রহণযোগ্য। দুর্ঘটনায় হাত-পা ভেঙে যাওয়া বা গুরুতর জখম হওয়া রোগীদের ঢাকায় পাঠানোর দীর্ঘ যাত্রাপথে অনেকেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, যা সঠিক সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা পেলে এড়ানো সম্ভব ছিল। মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও কেন্দ্রটি কার্যকর করার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমান বাদশাহ জানান, পদ্মা সেতুর গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগটি অত্যন্ত জরুরি ছিল, কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিনের ভাষ্যমতে, জনবল সংকটের বিষয়টি প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই দীর্ঘসূত্রতা এবং উদাসীনতা সরকারি প্রকল্পের সুফল পাওয়া থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করছে। যথাযথ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিশ্চিত না করলে এই ট্রমা সেন্টারের অস্তিত্ব কেবল সরকারি অর্থের অপচয় হিসেবেই গণ্য হবে।

পদ্মা সেতু সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের পরিবহন খাতের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় ট্রমা সেন্টারটি অবিলম্বে সচল করা সময়ের দাবি। দীর্ঘ এক যুগের এই অকার্যকারিতা কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাই নয়, বরং এটি একটি জননিরাপত্তা সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রটি চালু না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি থেকেই যাবে। সরকারি নীতিনির্ধারকদের উচিত অবিলম্বে এই সংকটের সুরাহা করে ট্রমা সেন্টারটিকে পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর করা, যাতে জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ তাদের দোরগোড়ায় জীবনরক্ষাকারী সেবা পেতে পারে।

Inga kommentarer hittades


News Card Generator