দিল্লিতে বিক্ষোভের মুখে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিল্লিতে বিক্ষোভের মুখে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দিল্লিতে বিক্ষোভের মুখে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ..
দিল্লিতে বিক্ষোভের মুখে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ..
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়ার প্রাক্কালে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার গুরগাঁওয়ের বাসভবন থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।..

শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠি। কিন্তু সেই বিক্ষোভ শুরুর আগেই দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬-তে অবস্থিত তার বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৮ মিনিটে পুলিশ সদস্যরা তার বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে হেফাজতে নেন। এই আটকের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন দিল্লিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে মোদি প্রশাসন, যা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ধ্রুব রাঠির আটকের আগের কয়েক দিনের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্রশাসন আগে থেকেই তাকে নজরদারিতে রেখেছিল। ঘটনার দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার বাড়ির সামনে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান নেয়, যা এক ধরনের ভীতি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে দেখছেন তার সমর্থকরা। আটকের সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ বা অভিযোগের বিষয়টি পরিষ্কার করেনি। বর্তমানে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের আইনি ধারা প্রয়োগ করা হতে পারে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, যা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে ধ্রুব রাঠির মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর এমন আকস্মিক পুলিশি পদক্ষেপের পেছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সিজেপির বিক্ষোভ দমনে প্রশাসন যে ধরনের কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা মূলত ভিন্নমত পোষণকারীদের কণ্ঠরোধ করার একটি প্রয়াস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নীরবতা পালন করা হলেও, এটি স্পষ্ট যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের টার্গেট করা হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তি ও আটকের আইনি ভিত্তি প্রকাশের দাবি তুলেছেন।

ধ্রুব রাঠির এই আটক কেবল একজন ইউটিউবারের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ নয়, বরং এটি ভারতের গণতান্ত্রিক পরিসরে স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে অন্যান্য অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সংবাদকর্মীদের জন্য একটি ভয়ের বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সংকুচিত করবে। জনমনে প্রশ্ন উঠছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের এভাবে আটক করা হলে নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা কতটুকু বজায় থাকবে এবং এই ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ আগামী দিনে ভারতের সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Nessun commento trovato


News Card Generator