ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের পিকআপ ভ্যান খাদে: দুই আসামিসহ আহত ৫.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের পিকআপ ভ্যান খাদে: দুই আসামিসহ আহত ৫..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের পিকআপ ভ্যান খাদে: দুই আসামিসহ আহত ৫..
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের পিকআপ ভ্যান খাদে: দুই আসামিসহ আহত ৫..
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পুলিশের পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে তিন পুলিশ সদস্য ও দুই আসামিসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।..

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মনিপুর এলাকায় আজ শুক্রবার বিকেলে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিজয়নগর থানা থেকে মাদক ও পারিবারিক মামলার দুই আসামিকে নিয়ে পুলিশের একটি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দিকে রওনা হওয়ার সময় সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পিকআপ ভ্যানে থাকা পুলিশের তিন সদস্য ও দুই আসামি গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে বিজয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না হলেও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা চালকের অসতর্কতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কনস্টেবল মো. জুম্মান, মো. মোস্তফা এবং পিকআপ ভ্যানের চালক নায়েক তোফায়েল আহমেদ রয়েছেন, আর আহত আসামিরা হলেন মোহন মিয়া ও রুজিনা বেগম। তাদের মধ্যে কনস্টেবল মোস্তফার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়া পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আসামিদের নিরাপত্তাও বর্তমানে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার আকস্মিকতায় পিকআপ ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে খাদে পড়ে গেলে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে না এলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতালের সার্জারি ও মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আহতদের প্রয়োজনীয় সিটিস্ক্যানসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। মাদক মামলার আসামি মোহন মিয়া এবং পারিবারিক মামলার আসামি রুজিনা বেগমকে পুলিশি প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের গাড়ির মতো একটি নিরাপত্তা সংবলিত যানবাহনের চালক কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের বর্তমান অবস্থা এবং পুলিশের গাড়ির ফিটনেস নিয়েও জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানিয়েছেন, আহত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আহতদের পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রশাসনিক ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাববার অবকাশ তৈরি করেছে। সরকারি যানবাহনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় চালকদের দক্ষতার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে তদারকি করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও ঘটনার মূল কারণ উন্মোচনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি একান্ত প্রয়োজন।

এই দুর্ঘটনাটি জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পুলিশের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে, আসামিদের আদালতে স্থানান্তরের সময় নিরাপত্তা প্রোটোকল যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদি নিয়মিত যাতায়াতের পথে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত তা নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় যেন কোনোভাবেই জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এই ঘটনাটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও সতর্কতা নিশ্চিত করা যায়।

نظری یافت نشد


News Card Generator