প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিল মালয়েশিয়া | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিল মালয়েশিয়া

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিল মালয়েশিয়া
প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিল মালয়েশিয়া
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া সরকার ২০২৭ সালের জুন থেকে বিদেশি শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা প্রায় ৪০ লাখ কর্মীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।..

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের সময় বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী বছরের জুন মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন নীতি অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী, স্থানীয় শ্রমিকদের ন্যায় বিদেশি কর্মীরাও সমান আইনি অধিকার ভোগ করেন, যার ফলে বাংলাদেশ, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এই বর্ধিত মজুরির সুবিধা পাবেন। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা মূলত দেশটিতে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ কর্মীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণার পর প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বেতন বৃদ্ধির খবরে শ্রমিকরা আশান্বিত, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নতুন মজুরি কাঠামোর আওতা থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্ষিক ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিতের কম টার্নওভার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এই নতুন নিয়ম থেকে আপাতত ছাড় পাওয়ায় অনেক শ্রমিক তাৎক্ষণিকভাবে বর্ধিত বেতনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। ভুক্তভোগী শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী, তাতে মজুরি বৃদ্ধির এই দীর্ঘমেয়াদী সময়সীমা প্রবাসীদের বর্তমান আর্থিক সংকট নিরসনে যথেষ্ট নয়। এছাড়া দক্ষ শ্রমিকদের যোগ্যতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের, যা এই নতুন নীতিমালায় পুরোপুরি নিরসন হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মজুরি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তটি কেবল শ্রমিকদের আয় বাড়ানোর জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামো সংস্কারের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্ট করেছেন যে, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা এবং তাদের প্রাপ্ত মজুরির মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই প্রক্রিয়ায় অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ রোধে কর বিধিমালা কঠোর করার পাশাপাশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মজুরি পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড় দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো তাদের ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রদান করা, যাতে পরবর্তীতে তারা নতুন মজুরি কাঠামোর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। পাশাপাশি, আধা-দক্ষ কর্মী এবং স্নাতকদের জন্য ২,৫০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের যে পরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে, তা মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

পরিশেষে, মালয়েশিয়ার এই মজুরি নীতি পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে প্রবাসী কর্মীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত অপেক্ষা এবং ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ ছাড়ের বিষয়টি শ্রমিকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এই বর্ধিত মজুরি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং এর সুবিধা সকল স্তরের কর্মীরা সমানভাবে পান, তবে তা মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করবে। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য এটি একটি ইতিবাচক সংকেত হলেও, বাস্তবায়ন পর্যায়ে স্বচ্ছতা এবং কঠোর তদারকিই হবে এই উদ্যোগের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

No se encontraron comentarios


News Card Generator