কুতুবদিয়ায় হামের প্রকোপে স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত: জরুরি ওয়ার্ড ও শয্যা সংকটে দ্বীপবাসী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কুতুবদিয়ায় হামের প্রকোপে স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত: জরুরি ওয়ার্ড ও শয্যা সংকটে দ্বীপবাসী..

Nazrul Islam avatar   
Nazrul Islam
কুতুবদিয়ায় হামের প্রকোপে স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত: জরুরি ওয়ার্ড ও শয্যা সংকটে দ্বীপবাসী..
কুতুবদিয়ায় হামের প্রকোপে স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত: জরুরি ওয়ার্ড ও শয্যা সংকটে দ্বীপবাসী..
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যেখানে শয্যা ও জনবল সংকটের কারণে আধুনিক চিকিৎসা সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।..

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। দ্বীপের একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৫০টি হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এর সুফল মিলছে না। ১৯৮০ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হাসপাতালটি পরবর্তীতে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও মূল ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নতুন ভবনের মাত্র ১৯টি শয্যা দিয়ে কার্যক্রম চলছে। ফলে হামে আক্রান্ত শিশুসহ সাধারণ রোগীদের গাদাগাদি করে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে উল্টো ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে একটি পৃথক ওয়ার্ড স্থাপন না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, জনবল সংকট ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাব থাকায় রোগীরা ন্যূনতম সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে দ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় কক্সবাজার বা চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় জটিল রোগীদের রেফার করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু সাগর পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় অনেক রোগী পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, জরুরি সরঞ্জাম ও দক্ষ চিকিৎসকের অভাবে রেফারেল প্রক্রিয়াটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় মেঝেতে অবস্থানরত রোগীদের যথাযথ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা চিকিৎসকদেরও পেশাদার দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সীমিত অবকাঠামো ও জনবল দিয়েও তারা সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মারুফ জানান, হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। প্রশাসনিক অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বর্তমান সংকট নিরসনে কোনো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, নতুন ভবন নির্মাণের দীর্ঘ অপেক্ষার পরিবর্তে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অন্তত একটি পৃথক জরুরি ওয়ার্ড চালু করা হোক, যাতে হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদাভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা সম্ভব হয় এবং জনবল সংকট কাটিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

এই স্বাস্থ্য সংকট কেবল একটি দ্বীপের সমস্যা নয়, বরং এটি দেশের প্রান্তিক জনপদগুলোর ভঙ্গুর স্বাস্থ্য অবকাঠামোর এক প্রতিচ্ছবি। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে মানুষের মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো নয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর করা না গেলে দ্বীপবাসীর যাতায়াত ও জীবনযাত্রার ঝুঁকি আরও বাড়বে। জনস্বাস্থ্যের এই নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে একটি সাধারণ রোগও দ্বীপবাসীর জন্য কাল হয়ে না দাঁড়ায়।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator