কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে হাতে-কলমে পাঠদান, সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার নজরদারি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে হাতে-কলমে পাঠদান, সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার নজরদারি..

MDRaihanMia MDRaihanMia avatar   
MDRaihanMia MDRaihanMia
কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে হাতে-কলমে পাঠদান, সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার নজরদারি..
কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে হাতে-কলমে পাঠদান, সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার নজরদারি..
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের কারিগরি জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতায় সমৃদ্ধ করে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি..

মোঃ রায়হান মিয়া, কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

‘প্রযুক্তি নিতে এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও’—এই স্লোগানকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কৃষিবিদ মোঃ আবুল কালাম আজাদের দিকনির্দেশনায় শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে তাত্ত্বিক পাঠদানের পাশাপাশি ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন ট্রেড ও অকুপেশনে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। এ ধরনের শিক্ষা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, মনোরম ও শিক্ষাবান্ধব। ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষরাজি। এসব গাছপালা একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে সীমিত জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহার করে পারিবারিক প্রয়োজনে ফল-ফুল ও অন্যান্য উপকারী গাছ লাগানোর একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও তুলে ধরছে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে রয়েছে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার নজরদারি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৬টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন শিক্ষক। ফলে প্রয়োজনীয় শিক্ষকসংকটের কারণে মানসম্মত পাঠদান অব্যাহত রাখা প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ কৃষিবিদ মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, সীমিতসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে নিয়মিতভাবে গুণগত মানসম্পন্ন পাঠদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিটি শিক্ষককে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে পাঠদানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত মনোযোগ দেওয়া এবং শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় শিক্ষকসংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের কারিগরি জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতায় সমৃদ্ধ করে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে—সে লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলছে কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator