ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুর গুজব | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুর গুজব

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুর গুজব
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুর গুজব
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী নিশ্চিত করেছেন যে তিনি বর্তমানে বসুন্ধরার বাসভবনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।..

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনে তার মৃত্যুর খবর ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই প্রবল ছিল যে, খোদ বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও ভুলবশত এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুর তথ্য প্রচার করা হয়। তবে দ্রুতই এই তথ্যকে গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে তার ব্যক্তিগত সহকারী মোকছেদুর রহমান আবির নিশ্চিত করেছেন যে, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া জীবিত আছেন এবং বর্তমানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিজ বাসভবনে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। মূলত নামের মিল থাকার কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

গুজব ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার জুনিয়র আইনজীবী রফিকুল হোসেন রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই দুই ব্যক্তির নামের আংশিক মিল থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিষয়টি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভুলের কারণে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। তার ব্যক্তিগত সহকারী আবির জানান, প্রয়াত আইনজীবী রফিকুল হোসেনের মৃত্যুর সংবাদটি ভুলক্রমে বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যু হিসেবে প্রচার পায়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতি-উৎসাহী ব্যবহারকারীদের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো তথ্য যাচাই না করেই দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন এবং এটি পরিবারের সদস্যদের জন্য অত্যন্ত মানসিক যন্ত্রণাদায়ক।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি বর্তমানে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন এবং নিয়মিত এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক জিয়াউল হকের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন। তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। এর আগে গত ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিৎসক দল তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছিলেন। পরিবার এবং দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিভ্রান্তি এড়াতে যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছেন, যেন এভারকেয়ার হাসপাতালে যাতায়াত ও জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ সহজতর হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে গুজব ছড়ানো বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যু নিয়ে এমন গুজব ডিজিটাল যুগে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। গত বছরের মার্চ মাসে তার স্ত্রী প্রফেসর ড. শাহিদা রফিকের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি অনেকটা নিভৃত জীবনযাপন করছেন এবং শারীরিক অসুস্থতার সাথে লড়াই করছেন। এই ধরনের গুজব শুধু ব্যক্তি বা তার পরিবারের জন্যই নয়, বরং জনমনে চরম অস্থিরতা তৈরি করে এবং সামাজিক আস্থার জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত করে। দায়িত্বশীল প্রচারের অভাব এবং দ্রুত খবরের পেছনে ছোটার প্রবণতা যে কতটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তা এই ঘটনাটি পুনরায় প্রমাণ করল। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার মন্তব্য বা পোস্ট করা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator