দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা: ভরিপ্রতি দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা নির্ধারণ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা: ভরিপ্রতি দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা নির্ধারণ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা: ভরিপ্রতি দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা নির্ধারণ..
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা: ভরিপ্রতি দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা নির্ধারণ..
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা শুক্রবার সকাল থেকে কার্যকর হয়েছে।..

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার ৯ অক্টোবর সকাল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও স্থানীয় বাজারে এই ঘনঘন মূল্য পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত সোমবার দাম কিছুটা কমানোর কয়েক দিনের মাথায় এই বড় আকারের বৃদ্ধি বাজারের অস্থিতিশীলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে, যা দেশের অর্থনীতিতে মূল্যবান ধাতুর প্রভাবকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী দামের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য স্বর্ণালঙ্কার কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী ক্রেতাদের মতে, বাজারের এই অস্থিরতায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং সঞ্চয়ের জন্য স্বর্ণ কেনার অভ্যাস থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত দাম সমন্বয় করলেও সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রেতা জানান, বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণের এই অস্বাভাবিক দাম তাদের পারিবারিক বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করছে, যেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো তদারকি বা বাজার নিয়ন্ত্রণের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। বিক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়লে তাদের বিক্রির পরিমাণ কমে যায়, যা ব্যবসা পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) তাদের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান পরিবর্তনের কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলতি বছরে ১২১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করার ঘটনাটি বাজারের চরম অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। ৫৯ দফা দাম বৃদ্ধি এবং ৬২ দফা কমানোর এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে স্থানীয় বাজারটি নিজস্ব কোনো কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে চলছে না, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বর্ণের বাজারের এই অনিয়ন্ত্রিত গতিবিধি পর্যবেক্ষণে কোনো শক্ত অবস্থান না থাকায় ব্যবসায়ীদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণের বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।

স্বর্ণের দামের এই ঘনঘন পরিবর্তন শুধু অলঙ্কার শিল্পের ওপরই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক খুচরা বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে দেশের স্বর্ণ শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ সাধারণ মানুষের কাছে এখন স্বর্ণ বিলাসিতার চেয়েও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ৯৩ বার এবং চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১২১ বার দাম সমন্বয় করার ঘটনাটি বাজারের দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্বর্ণের বাজার রাখতে হলে সরকারি পর্যায়ে একটি সুষ্ঠু নীতিমালা ও কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, নতুবা এই মূল্যবান ধাতুর বাজার সাধারণের নাগালের বাইরেই থেকে যাবে।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator