চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ: বরিশাল হাসপাতালের নার্স সোনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ: বরিশাল হাসপাতালের নার্স সোনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ..

MD  IMRAN MUNSHI avatar   
MD IMRAN MUNSHI
চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ: বরিশাল হাসপাতালের নার্স সোনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ..
চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ: বরিশাল হাসপাতালের নার্স সোনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুপরিকল্পিত প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের (সদর হাসপাতাল) পুরুষ মেডিসিন বিভাগে কর্মরত সিনিয়র স্টা..

 

মোঃ ইমরান মুন্সি 
স্টাফ রিপোর্টার:

​সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুপরিকল্পিত প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের (সদর হাসপাতাল) পুরুষ মেডিসিন বিভাগে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সোনিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। তিনি বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (BNMC) নিবন্ধিত কর্মকর্তা।এই আর্থিক জালিয়াতির শিকার হয়েছেন ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া থানার দক্ষিণ আনইলবুনিয়া গ্রামের মো. রিফাত হোসেন।

​অভিযুক্ত সোনিয়া আক্তার (পিতা: মো. আবুল আবুল হোসেন মৃধা, সাং-কচুয়া, শৌলজালিয়া, কাঁঠালিয়া, ঝালকাঠি) নিজেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের (DGNM) ১০ম গ্রেডের স্থায়ী কর্মকর্তা বলে জানা গেছে। এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি ভুক্তভোগী রিফাত হোসেনকে একটি সরকারি হাসপাতালে 'অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট' পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখান এবং হাসপাতালে একটি ভুয়া আবেদন ফরম পূরণ করান।

ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোনিয়া আক্তারের সোনালী ব্যাংক পিএলসির নাজিমউদ্দিন রোড শাখা, ঢাকার প্রধান অনলাইন কোর ব্যাংকিং হিসাব নম্বরে (৫৫৩৪৩০১০০৫৪৭৭) বিভিন্ন সময়ে মোট ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়।

​এর মধ্যে ওমান প্রবাসী চাচা মোহাম্মদ মিরাজ হোসাইন আল জাদিদ এক্সচেঞ্জ ও এজ রেমিটের মাধ্যমে দুই দফায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৫ টাকা পাঠান। বাকি টাকা ভুক্তভোগী রিফাত হোসেন নিজে ব্যাংক কাউন্টারে নগদ জমা করেন। প্রতিটি ব্যাংক জমার রসিদে সিল ও ক্যাশিয়ারের স্বাক্ষর রয়েছে।

টাকা নেওয়ার পর জালিয়াতি ঢাকতে একটি চক্রের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর মোবাইলে (+৮৮০১৫৭৭০০৮৪৩৮) একটি ভুয়া সিলেকশন মেসেজ পাঠানো হয়। মেসেজে তাকে ‘SHNIBPS’-এ অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নির্বাচিত দেখানো হয় এবং মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

​ভুক্তভোগীর সন্দেহ হলে সোনিয়া আক্তার তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, "সব ঠিক আছে, যেকোনো সময় জয়েনিংয়ের জন্য ডাকবে।" তবে দীর্ঘ সময়েও কোনো নিয়োগপত্র না আসায় খোঁজ নিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হন রিফাত।

পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে সোনিয়া আক্তার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। উল্টো সরকারি চাকরির ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিফাত হোসেন প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (BNMC) এর রেজিস্ট্রার এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরসহ (DGNM) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স সোনিয়া আক্তারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে জানান, "এ বিষয়ে এখন কিছু বলব না, পরে বলব।"

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator