মালদ্বীপের নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আকরামকে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মালদ্বীপ চ্যাপ্টারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। মানবাধিকার সুরক্ষা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আহমেদ আকরামের দীর্ঘ কর্মজীবনে নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি যে পেশাদারিত্ব ও সততার পরিচয় দিয়েছেন, তা এই নিয়োগের পেছনে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবাধিকারের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার যে লড়াই সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চালিয়ে যাচ্ছে, মালদ্বীপের প্রেক্ষাপটে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আকরাম তার অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই নিয়োগের ফলে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আহমেদ আকরামের এই নিয়োগের বিষয়টি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার কর্মদক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান, উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) আবু নাসের মো. ইলিয়াস এবং মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলীসহ চট্টগ্রাম বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় আকরামের বিগত দিনের ভূমিকা এবং আইনি কাঠামোর ওপর তার অগাধ দখলকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মালদ্বীপের মতো একটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে যেখানে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে নিয়মিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, সেখানে আকরামের মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির উপস্থিতি মানবাধিকার কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জাফর ইকবাল ও আবছার উদ্দিন অলি। তার এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে মালদ্বীপের নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচারের পথ প্রশস্ত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের নীতিনির্ধারকরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আহমেদ আকরামের এই নতুন পদায়ন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকারের মানদণ্ড বজায় রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। মালদ্বীপ চ্যাপ্টারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করবেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন যে, আহমেদ আকরাম তার অদম্য মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে মালদ্বীপের বিদ্যমান মানবাধিকার পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেবেন। একইসাথে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি যে কর্মসূচি হাতে নেবেন, তাতে ফাউন্ডেশনের পূর্ণ সমর্থন থাকবে বলেও বার্তা পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা নিরসনে আকরামের পূর্ব অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামগ্রিকভাবে, আহমেদ আকরামের এই নিয়োগ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মানবাধিকার আন্দোলনের জন্য একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মালদ্বীপের নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং আইনি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে তার এই নতুন অবস্থান ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী প্রভাব ফেলবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্বচ্ছতার সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারলে এটি কেবল মালদ্বীপ নয়, বরং পুরো সার্ক অঞ্চলের মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় আহমেদ আকরামের নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তার এই নতুন যাত্রায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার সুস্বাস্থ্য ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন, যা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।