ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, কেসি কলেজে পাঠদান বন্ধ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, কেসি কলেজে পাঠদান বন্ধ

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, কেসি কলেজে পাঠদান বন্ধ
ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, কেসি কলেজে পাঠদান বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও পালটাপালটি ধাওয়ার জেরে ক্যাম্পাসে পাঠদান স্থগিতসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে কলেজ প্রশাসন।..

ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাসরুর উল আলমের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য হয়, যার ফলে হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংঘাতের মূলে রয়েছে রাজনৈতিক মতাদর্শের দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করেছে। ছাত্রদলের অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রশিবিরের এক কর্মী ফেসবুক পোস্টে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শাখা ছাত্রদলের সভাপতি বাবর আলী মাহফুজের দাবি, পোস্টটি মুছে ফেলার অনুরোধ জানালে তা নিয়ে তীব্র বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে পালটাপালটি ধাওয়ার রূপ নেয়। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের পূর্বনির্ধারিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলাকালে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি শাহরিয়ার মাহবুব ইসলাম জানান, অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, যা তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।

কলেজ প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও, ঘটনার পর থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একাডেমিক কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন ক্যাম্পাসে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর এই অসহনশীল আচরণ এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে পালটাপালটি ধাওয়ার মতো ঘটনা উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত করছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না আনলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

ঝিনাইদহ কেসি কলেজের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি নেতিবাচক প্রতিফলন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক বিবাদের রণক্ষেত্রে পরিণত করার এই প্রবণতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত বহন করছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ক্যাম্পাসের এই অচলাবস্থা নিরসন করা প্রায় অসম্ভব। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সংগঠনগুলো তাদের কর্মকাণ্ডকে নিয়মের মধ্যে না আনে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত না করে, তবে আগামী দিনে ঝিনাইদহসহ দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর ঝুঁকি থেকে যাবে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator