বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন।
সংখ্যালঘু নির্যাতন ও বিগত সরকারের চক্রান্ত
রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেই দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এগুলো সবই ছিল তাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে বোঝানোর জন্যই এই অপকৌশল নেওয়া হয়েছিল—যাতে ভারতকে বার্তা দেওয়া যায় যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ থাকবে না এবং তাদের সুরক্ষার অজুহাতে যেন অবৈধ সরকারকে সমর্থন দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকার সবেমাত্র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং বর্তমান সরকারের আমলেই এই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে। আমাদের কাছে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য রয়েছে যে, এই দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বড় ধরনের চক্রান্তের পাঁয়তারা করছে, যাতে ভারতকে বোঝানো যায় যে বিএনপি সরকারের আমলে সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।”
ভারতীয় মিডিয়ার গুজব ও সরকারের প্রস্তুতি
পূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, “আমাদের বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, যাতে এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী কোনো ধরনের অরাজকতা বা চক্রান্ত করতে না পারে।”
ভারতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের কোথাও কোনো সাধারণ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও ভারতীয় বিভিন্ন মিডিয়ায় তা বাড়িয়ে বা মিথ্যাভাবে প্রচার করা হয় যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন চলছে। মূলত এ দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি ও ঐক্য অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। তবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইয়েরা উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করবেন এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সবসময় তাদের পাশে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।