বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে লোহাগড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন। ‘খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণআন্দোলন গড়ে তুলুন’ এবং ‘ধর্ম-বর্ণ-ভিন্নমত, সবার জন্য খেলাফত’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে হুশিয়ারি
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালে দেশের জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে। ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৮০ বার বৈঠকের পরও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মানসিকতার কারণে ‘জুলাই সনদ’ এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে রাখা হয়েছে আর রাষ্ট্রপতিকে কাঠের পুতুল বানিয়ে রাখা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ তরুণ শহীদ হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মূল দাবি ছিল মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং কোটা প্রথা বাতিল করা, যা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
সিন্ডিকেট ও দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ
বিগত সরকারের প্রসঙ্গ টেনে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বর্তমান সরকারও পুলিশ ও ছাত্রসংগঠনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে। দেশে সিন্ডিকেট করে বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে এবং দাম বাড়ানোর পরপরই সেই সংকট জাদুমন্ত্রের মতো উধাও হয়ে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরিশেষে তিনি দ্রুত সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মহসিন উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা শাফায়াত হোসাইনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ কাসেমী, শূরা সদস্য মুফতি আব্দুর রহমান, গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি মুফতি ফারুক হাসান নদভী, উপদেষ্টা মাওলানা শুয়াইব ইব্রাহীম, যশোর জেলা সভাপতি মাওলানা বেলায়েত হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাসুম বিল্লাহ এবং মাগুরা জেলা সভাপতি মাওলানা মনিরুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।