বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন।
স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ
ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লিখেছেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে এক বা একাধিক সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অফিসের মাধ্যমে সেই তালিকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিসে পাঠানো হচ্ছে।
অভিযোগ করে তিনি লেখেন, “উপজেলা ইউএনও অফিস থেকে যে তালিকা পাঠানো হচ্ছে, সেই তালিকা করছে উপজেলা বিএনপির নেতারা। বিএনপি দল না করলে অন্য কোনো যোগ্য, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম সেই তালিকায় আসার কোনো সুযোগ নেই। অথচ স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিজেদের নামে, স্ত্রী, ভাই-বোন, বাবা-মায়ের নামে-বেনামে সেই ডিলারশিপ পাওয়ার সব অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সুযোগ থাকলে অনাগত সন্তানের নামেও লাইসেন্স করার চেষ্টা করতেন তারা।”
যোগ্যতা সাপেক্ষে ডিলারশিপ পাওয়ার অধিকার সবার থাকলেও বিএনপির পরিচয় বা লবিং ছাড়া কোনো নির্দলীয় বা বিরোধী দল সমর্থিত যোগ্য ব্যক্তি প্রাথমিক তালিকায় স্থান পাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ডিলারশিপে চড়া দর ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
সারজিস আলম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে একটি ডিলারশিপের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার দর উঠেছে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা! বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে ডিলারশিপ পাওয়ার পর সেই টাকা তুলে নিতে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নেন, যেখানে কৃষকদের স্বার্থ পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়।
তিনি আরও লেখেন, “এভাবে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের হাতে কিংবা তাদের ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের হাতে লাইসেন্স তুলে দিচ্ছে। এই লাইসেন্সধারীরা পরবর্তীতে অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। সরকার নির্লজ্জভাবে সেই সিন্ডিকেটের কাছে মাথা নত করছে এবং মূল্যবৃদ্ধি করছে, যা ইতোমধ্যে জ্বালানি ও এলপিজির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়েছে।”
লাইসেন্সধারী ও সিন্ডিকেট চক্র এক রাতের ব্যবধানে জনগণের শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে উল্লেখ করে সারজিস বলেন, এর ফলে শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বাড়িয়ে জনগণকে জিম্মি করা হচ্ছে এবং জনসাধারণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে।