টিউশনের টাকায় নির্মিত শিক্ষার্থীদের প্রথম চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’ আসছে দুর্গাপূজায়.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

টিউশনের টাকায় নির্মিত শিক্ষার্থীদের প্রথম চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’ আসছে দুর্গাপূজায়..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
টিউশনের টাকায় নির্মিত শিক্ষার্থীদের প্রথম চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’ আসছে দুর্গাপূজায়..
টিউশনের টাকায় নির্মিত শিক্ষার্থীদের প্রথম চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’ আসছে দুর্গাপূজায়..
ছবি: সংগৃহীত
টিউশনের টাকা, জমানো পকেটমানি আর অদম্য স্বপ্নকে পুঁজি করে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন একদল উদ্যমী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ..

 

এসজেএ প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটি আসন্ন দুর্গাপূজায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে সিনেমাটির এনাউন্সমেন্ট পোস্টার, মোশন ভিডিও ও মূল পোস্টার দর্শকদের নজর কেড়েছে। খুব শীঘ্রই এর অফিসিয়াল ট্রেলার ও মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করা হবে।

চেনা গল্প ও ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা

মাত্র ছয়জনের একটি ছোট দল নিয়ে সিনেমাটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে এর সঙ্গে যুক্ত হন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীরা। পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপের ফাঁকে নিজেদের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করেই চলচ্চিত্রটি সম্পন্ন করেন তারা।

‘অন্যপাতা’র মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। ভর্তি যুদ্ধের কঠিন সময়ে শিক্ষার্থীদের পরিচয় সংকট, পারিবারিক ও মানসিক চাপ, বাস্তবতার নিষ্ঠুর মুখোমুখি হওয়া এবং এর মাঝেও ছাত্রজীবনের মিষ্টি প্রেমের গল্প উঠে এসেছে এই চলচ্চিত্রে।

বাস্তব জীবনের দুটি ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটির গল্প রচনা ও পরিচালনা করেছেন চুয়েট শিক্ষার্থী মো আমাদের শাহেজাহান এ্যানি। পরিচালক বলেন, “আমাদের দেশের সিংহভাগ শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংগ্রামের সময় কাটে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়। সেই সময়ের রেশ থেকে বের হতে অনেক সময় লাগে। ওই সময়ের সার্ভাইভালের একটি মিষ্টি অভিজ্ঞতার গল্পই ‘অন্যপাতা’।”

চলচ্চিত্রের নেপথ্য কলাকুশলী ও গান

এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটের এই সিনেমায় রয়েছে মোট ছয়টি মৌলিক গান। পাশাপাশি মনোরম আবহসংগীত, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃতির চমৎকার সিনেমাটিক উপস্থাপন এবং জেন-জি প্রজন্মের ভাষার নিপুণ ছোঁয়া রাখা হয়েছে।

সিনেমার প্রযোজক চুয়েট শিক্ষার্থী অংকন দে অনিমেষ ও বুয়েট শিক্ষার্থী সামস আবতাহী ইসমাম জানান, গল্পটি অতি চেনা হলেও এর অভিজ্ঞতাটি দর্শকদের জন্য বেশ অভিনব হবে। এতে জেন-জি প্রজন্মের নিজস্ব ভাষার ছাপ থাকলেও এর সহজ, সরল ও মিষ্টি গল্প সব বয়সের দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে বলে তাদের বিশ্বাস।

চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়া শাকিল ও প্রত্যাশা ঘোষ। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন শাইম, নোমান, অনিমেষ, একুশী, ইমরান, মনন ও রোবেনসহ একদল নতুন মুখ।

এর অন্যান্য কারিগরি ও নান্দনিক কাজের দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষার্থীরাই। শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন চবি শিক্ষার্থী ইন্দ্র নীল এবং চিত্রগ্রহণে ইব্রাহিম বিন আনছারী। গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন ফাহরিয়াজ তাসজিম মনন এবং আবহসংগীত তৈরি করেছেন আইনান। পোস্ট প্রোডাকশন ও কালার এডিটিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন চুয়েট শিক্ষার্থী তানভীর জানি। কাস্টিং পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থী নোমান আহমদ রনি এবং লাইন প্রডাকশনের দায়িত্বে ছিলেন এইচএসসি শিক্ষার্থী সুদীপ্ত পাল।

সংগ্রামের আরেক উপাখ্যান

শিক্ষার্থীদের জন্য এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করাটা নিজেই ছিল একটি বড় সংগ্রামের গল্প। পড়াশোনার পাশাপাশি সময় বের করে শুটিং ও সম্পাদনা করা এবং আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাদের। নিজেদের টিউশনের টাকা ও পকেটমানি বাঁচিয়ে তিলে তিলে এগিয়েছে এর নির্মাণকাজ। নিজেদের স্বপ্নের প্রতি অবিচল বিশ্বাস রেখেই শেষ পর্যন্ত বড় পর্দায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই তরুণরা। আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন এই প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থীরা।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator