তিন দফা দাবিতে বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তিন দফা দাবিতে বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
তিন দফা দাবিতে বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু..
তিন দফা দাবিতে বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু..
ছবি: সংগৃহীত
শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন গণহত্যার বিচারের দাবিতে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।..

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ঐতিহাসিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইনকিলাব মঞ্চ ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শীর্ষক একটি দীর্ঘ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেছে। বুধবার দুপুরে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই পদযাত্রায় অংশ নিয়েছে। সংগঠনটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাবান্ধা থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা তেঁতুলিয়া হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে। পদযাত্রার প্রথম দিনে ২১ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো যাত্রাপথে সাধারণ মানুষের মাঝে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনমত গঠনের কাজ চলবে। মূলত শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

পদযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের সরাসরি অভিযোগ করেন যে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ভুক্তভোগী সংগঠনের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাতের শামিল। জাবেরের ভাষ্যমতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারত, আওয়ামী লীগ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের যোগসাজশ রয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করেছে। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী কর্মীরা মনে করেন, হত্যাকারীরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে। তাই ডিসেম্বরের মধ্যে বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়দের মাঝে লিফলেট বিতরণের সময় তারা এই দাবিগুলোকে জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন এবং দীর্ঘস্থায়ী বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইনকিলাব মঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তাদের এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি সোচ্চার অবস্থান। আব্দুল্লাহ আল জাবের হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে গড়িমসি করা হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তাদের দাবি, জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন ছাড়া দেশে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বর্তমানে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দাবিসমূহ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় সংগঠনটি তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তারা সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপোষ করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যা মূলত প্রশাসনের ওপর দ্রুত তদন্ত শেষ করার একটি চাপ হিসেবে কাজ করছে।

এই ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি দেশের পরিবহন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জননিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলমান এই দীর্ঘ পদযাত্রা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত দিয়ে অতিক্রম করার সময় জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই তিন দফা দাবি পূরণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে এই আন্দোলন আরও সংহত হয়ে রাজপথে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণ মানুষের মাঝে ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনাকে পুঁজি করে ইনকিলাব মঞ্চ যেভাবে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে, তা আগামীর রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই পদযাত্রা ও প্রতিবাদী কর্মসূচি দেশের বিচারিক কাঠামো ও জনমনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বজায় রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

نظری یافت نشد


News Card Generator