দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে: রিজভী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে: রিজভী..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে: রিজভী..
দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে: রিজভী..
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করতে পরাজিত অপশক্তি নানাভাবে নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষ..

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পতিত দোসররা নানা কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার চেষ্টা করছে। রিজভী স্পষ্ট করেন যে, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এই অপশক্তি নিরন্তর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, যার প্রেক্ষিতে তিনি দেশবাসীকে সর্বদাই সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের সরকার হিসেবে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না। সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার নেপথ্যে থাকা এই গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তিনি তার বক্তব্যে জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি ডেঙ্গু মহামারির ভয়াবহতা এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে রিজভী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতা। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি বাড়ির আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা এডিস মশার প্রজনন রোধে অত্যন্ত জরুরি। ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচ নিয়ে দুর্নীতির পুরনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সরকার এখন বিনামূল্যে পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে, যা স্বাস্থ্য খাতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতায় জনদুর্ভোগের চিত্রটি এখনো উদ্বেগজনক, যেখানে সচেতনতার অভাবে এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার স্বার্থে এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে আরও তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী পুলিশের ভ্যান থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসীর পলায়নের ঘটনাটিকে অত্যন্ত রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সরাসরি প্রশাসনের ভেতরকার গাফিলতি বা কোনো ধরনের যোগসাজশের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কীভাবে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেঙে শীর্ষ সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়, তা জনমনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার মতো কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এখনো প্রশাসনের ভেতরে সক্রিয় থাকতে পারে, যাদের চিহ্নিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। প্রশাসনের ভেতরে থাকা এই 'ভূত' বা অসাধু চক্রকে নির্মূল না করলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

পরিশেষে, বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জসমূহ কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতেও কঠোর অবস্থানে থাকা জরুরি। পতিত দোসরদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে তবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে। রিজভীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে সরকার এবং প্রশাসনের কার্যকারিতা আগামী দিনগুলোতে কেমন হবে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও প্রত্যাশা উভয়ই বিদ্যমান। পরিবহন, স্বাস্থ্য এবং আইনশৃঙ্খলা—প্রতিটি খাতেই এই সতর্কতামূলক বার্তা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা এখন দেখার বিষয়।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator