রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় বুধবার সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই কার্যক্রমে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম স্বপনসহ তেজগাঁও থানা যুবদলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় মশার বংশবিস্তার রোধ করা এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা। মূলত এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার অঙ্গীকার নিয়ে যুবদলের স্থানীয় শাখা এই উদ্যোগ গ্রহণ করে, যা বর্তমান স্বাস্থ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কর্মসূচির আওতায় তেজগাঁওয়ের বিভিন্ন গলি ও জনাকীর্ণ স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় এবং মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে এমন সম্ভাব্য স্থানগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের অভাবে এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বাসাবাড়ির ছাদে, বারান্দায় কিংবা অব্যবহৃত পাত্রে যেন পানি না জমে সে বিষয়ে বাসিন্দাদের সরাসরি নির্দেশনা প্রদান করেন। ইসলাম স্বপন এ সময় বলেন, ডেঙ্গু কেবল প্রশাসনিক বা সরকারি কোনো একক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সামাজিক সংকট, যা মোকাবিলায় প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব আঙ্গিনা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও নিয়মিত তদারকির অভাব নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর সংশয় ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে, যা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর পদক্ষেপের দাবিকে জোরালো করে তুলেছে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল সচেতনতামূলক কর্মসূচি যথেষ্ট নয়, বরং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। যুবদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছেন, যাতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। যদিও স্থানীয় প্রশাসন বা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট সময়ে মশক নিধন কার্যক্রমের কোনো সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার কথা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে যুবদলের এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। মশার উপদ্রব কমাতে এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়হীনতা যে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তা এই কর্মসূচির মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।
পরিশেষে, তেজগাঁওয়ে যুবদলের এই কার্যক্রম ডেঙ্গু পরিস্থিতির বর্তমান ভয়াবহতায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নির্ভর করছে কার্যকর মশক নিধন ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর। ডেঙ্গু রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও, মূল দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা দূর না হলে এই সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন। ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মসূচি যদি নিয়মিত বিরতিতে পরিচালনা করা হয় এবং সাধারণ মানুষ যদি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন হয়, তবেই রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে জনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগটি মূলত একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে যা অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকেও ডেঙ্গু মোকাবিলায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে।