বিশ্বজয়ী নাকি ধ্বংসের প্রতীক? চেঙ্গিস খানের উত্থান ও ইতিহাসের এক অন্য অধ্যায়.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বিশ্বজয়ী নাকি ধ্বংসের প্রতীক? চেঙ্গিস খানের উত্থান ও ইতিহাসের এক অন্য অধ্যায়..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বিশ্বজয়ী নাকি ধ্বংসের প্রতীক? চেঙ্গিস খানের উত্থান ও ইতিহাসের এক অন্য অধ্যায়..
বিশ্বজয়ী নাকি ধ্বংসের প্রতীক? চেঙ্গিস খানের উত্থান ও ইতিহাসের এক অন্য অধ্যায়..
ছবি: সংগৃহীত
মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব জন্ম নিয়েছেন, যাদের নাম শুনলেই একাধারে সৃষ্টি ও ধ্বংসের চিত্র ভেসে ওঠে। ত্রয়োদশ শতকের বিশ্বরাজনীতি ও ভূগোলের মানচিত্র চিরতরে বদলে দেওয়া তেমনই এক কিংবদন্তি ও ভীত..

আজকের দিনে চেঙ্গিস খানকে অনেকেই কেবল একজন নির্মম রক্তপিপাসু বিজয়ী হিসেবে জানলেও, তার জীবনের উত্থান এবং বিশ্বজয়ের ইতিহাস ছিল অবিশ্বাস্য এক স্ট্র্যাটেজি ও শৃঙ্খলার গল্প।

তেমুজিন থেকে চেঙ্গিস খান হয়ে ওঠার ইতিহাস

১১৮০ বা ১১৬০-এর দশকের কোনো এক সময়ে বর্তমান মঙ্গোলিয়ার বুনো ও কঠোর প্রান্তরে জন্ম হয়েছিল তার, যার আদি নাম ছিল তেমুজিন। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চরম দারিদ্র্য, অপমান আর জীবনসংগ্রামে। মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বাবাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় এবং শত্রুতাবশত তার পরিবারকে গোত্রছাড়া করা হয়। দাসত্ব আর বন্দিদশার নির্মম যন্ত্রণা সহ্য করে তেমুজিন ধীরে ধীরে মঙ্গোলিয়ার বিক্ষিপ্ত যাযাবর উপজাতিগুলোকে নিজের অসাধারণ নেতৃত্বগুণ ও কূটনীতির মাধ্যমে এক সুতোয় বাঁধতে শুরু করেন।

অবশেষে ১২০৬ সালে মঙ্গোলিয়ার সকল গোত্রের প্রতিনিধিরা এক মহাসভায় (কুরিলতাই) তাকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ঘোষণা করেন এবং তাকে ‘চেঙ্গিস খান’ বা ‘সর্বজনীন শাসক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অজেয় সামরিক কৌশল ও বিশ্বজয়

ক্ষমতা পাওয়ার পরই চেঙ্গিস খান মঙ্গোল জাতিকে একটি অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তিতে রূপান্তর করেন। তার অশ্বারোহী বাহিনী ছিল গতির প্রতীক। নিখুঁত শৃঙ্খলা, দূরপাল্লার তীরন্দাজি এবং সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল তাদের বিজয়ের পথ সুগম করেছিল।

চীন থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া, পারস্য এবং ইউরোপের সীমান্ত পর্যন্ত তার ঘোড়ার খুরের ধুলো উড়েছিল। বর্তমান চীন, রাশিয়া, ইরান, ইরাক ও মধ্য এশিয়ার বিশাল ভূখণ্ড তার সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। বলা হয়ে থাকে, আধুনিক বিশ্বের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তারই বংশধর!

রক্তপাত ও সভ্যতার সংঘাত

চেঙ্গিস খানের বিজয়যাত্রার ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনি তা ছিল রক্ত ও ধ্বংসলীলায় ভরা। কোনো শহর যদি তার বশ্যতা স্বীকার করত, তবে সেখানে শান্তি বজায় থাকত। কিন্তু সামান্যতম প্রতিরোধ বা অবাধ্যতা দেখলে তিনি পুরো শহর জ্বালিয়ে দিতে দ্বিধা করতেন না। খোয়ারিজম সাম্রাজ্য বা বাগদাদ আক্রমণের সময়কার নৃশংসতা ইতিহাসের পাতায় এক অন্ধকার অধ্যায় হয়ে আছে। লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল তার অভিযানে।

আধুনিক বিশ্বের দৃষ্টিতে চেঙ্গিস খান

তবে চেঙ্গিস খানকে কেবল একজন বর্বর ধ্বংসকারী হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি মঙ্গোল সাম্রাজ্যের জন্য ‘ইয়াসাক’ নামক কঠোর আইন প্রণয়ন করেছিলেন, যা সমাজে চুরি, ব্যভিচার ও গোত্রগত রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিষিদ্ধ করেছিল। পাশাপাশি তিনি ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা (‘জাম’ পদ্ধতি), ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়েছিলেন। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

মৃত্যুর পর প্রায় আট শ’ বছর কেটে গেলেও চেঙ্গিস খান আজও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এক রহস্যময় চরিত্র। তিনি কি কেবলই এক নির্মম ঘাতক ছিলেন, নাকি ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সর্বকালের সেরা এক বিজেতা—এই বিতর্ক আজও অমলিন।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator