তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান..
তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান..
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন।..

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বুধবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে তার এই বিদেশ সফর। বুধবার সকালে বিমানবন্দরে দলীয় শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার এই সফর মূলত একাডেমিক ও কূটনৈতিক আলোচনার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তারা তার সফল সফর কামনা করে বিদায় জানান, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ ২.০-এর সংস্কারের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তুরস্ক-বাংলাদেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ যৌথভাবে আয়োজন করেছে। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও তুরস্কের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন, যেখানে বাংলাদেশের বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বর্তমান বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরবেন। তার এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে পর্যবেক্ষক মহল। সম্মেলনের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কেবল একটি একাডেমিক আয়োজন নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে ডা. শফিকুর রহমান সৌদি আরবে গমন করবেন এবং সেখানে পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন। তার এই সফরসূচি অত্যন্ত সুসংহত, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবর সকালে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, কারণ বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আন্তর্জাতিক সফর ও বিভিন্ন সম্মেলনে অংশগ্রহণকে একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলীয় নীতিনির্ধারকদের দাবি, দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করাটা এখন সময়ের দাবি, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।

ডা. শফিকুর রহমানের এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনায় সংস্কারের বিষয়টি জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তার এই উপস্থিতি এবং পরবর্তীতে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে তিনি রাজনীতির মাঠে কীভাবে ভূমিকা রাখেন, তা এখন দেখার বিষয়। পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় হওয়ার এই প্রচেষ্টা জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে, তার এই সফর কেবল একটি সম্মেলন বা ধর্মীয় যাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীর সমীকরণ, যা আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Geen reacties gevonden


News Card Generator