মতলবে অগ্নিকাণ্ডে ছয় ব্যবসায়ীর সর্বস্বান্ত, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মতলবে অগ্নিকাণ্ডে ছয় ব্যবসায়ীর সর্বস্বান্ত, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মতলবে অগ্নিকাণ্ডে ছয় ব্যবসায়ীর সর্বস্বান্ত, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা..
মতলবে অগ্নিকাণ্ডে ছয় ব্যবসায়ীর সর্বস্বান্ত, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চরপাথালিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে, যা স্থানীয় ক্ষুদ্র অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।..

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের চরপাথালিয়া বাজারে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ অগ্নিকাণ্ডে রুহুল আমিনের মালিকানাধীন ফার্নিচারের দোকানসহ মোট ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং আগুন নেভানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে মতলব উত্তর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি ইউনিট রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দমকল বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই দোকানগুলোতে থাকা মালামাল ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় প্রায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ফার্নিচার ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের একারই প্রায় ৯৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন, যার মধ্যে দোকানের নগদ এক লাখ ৬২ হাজার টাকা, ২০ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ এবং ৭২ লাখ টাকার কাঠ ও ফার্নিচার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া ধীরেন চন্দ্র দাস ও অরুন ডাক্তারের ফার্মেসি এবং রবীন্দ্র চন্দ্র দাস, অসীম রায় ও বংশী চন্দ্র দাসের দোকানগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় আরও অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। দোকান মালিকরা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে আগুন লাগার ফলে তারা কোনো মালামালই সরিয়ে নিতে পারেননি, ফলে মুহূর্তের মধ্যে তাদের দীর্ঘদিনের পুঁজি ও উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। চরপাথালিয়া বাজারের মতো একটি জনবহুল স্থানে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের অভাব এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাড়াদানের সীমাবদ্ধতা ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে মতলব উত্তর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ মো: কফিল উদ্দিন জানান, তাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে পুরো বাজারটি আগুনের গ্রাসে চলে যেতে পারত। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের বিষয়টি প্রাথমিক ধারণা মাত্র এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবসায়ীরা এখন আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা পুনরায় ব্যবসা শুরু করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। তবে বাজারের বৈদ্যুতিক সংযোগের দুর্বলতা ও অগ্নিঝুঁকি নিরসনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিষয়টি এখন জনমনে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যথাযথ নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই অগ্নিকাণ্ড চরপাথালিয়া বাজারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি করেছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি চরম বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি, অন্যদিকে ব্যবসায়িক মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের বৈদ্যুতিক লাইনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অগ্নিনির্বাপণ সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা প্রদান এবং বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

Nema komentara


News Card Generator