পিসিবির অনাপত্তিপত্র জটিলতায় লেজেন্ডস টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পিসিবির অনাপত্তিপত্র জটিলতায় লেজেন্ডস টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পিসিবির অনাপত্তিপত্র জটিলতায় লেজেন্ডস টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান..
পিসিবির অনাপত্তিপত্র জটিলতায় লেজেন্ডস টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান..
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস (ডব্লিউসিএল) থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস।..

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কঠোর নীতি এবং অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদানে অস্বীকৃতির কারণে চলমান ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস (ডব্লিউসিএল) থেকে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস দল তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত ৩ অক্টোবর শারজায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে টুর্নামেন্টটি শুরু হলেও পিসিবির পূর্বনির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার মুখে পাকিস্তান দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচটি শুরু থেকেই অনিশ্চয়তার মুখে ছিল এবং আয়োজক কর্তৃপক্ষ পিসিবির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পিসিবি তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে না আসায় এবং এনওসি না পাওয়ায় দলের পক্ষে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার ফলে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যকার পূর্বনির্ধারিত ম্যাচটিও বাতিলের পথে।

সাবেক অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস দলের জন্য এটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে, যারা গত আসরে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে আয়োজকরা এনওসি আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও পিসিবির অনড় মনোভাবের কারণে খেলোয়াড়দের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। ভুক্তভোগী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বোর্ডের এই প্রশাসনিক জটিলতা কেবল খেলোয়াড়দের পেশাদার ক্যারিয়ারের ওপর প্রভাব ফেলছে না, বরং বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের সাবেক তারকাদের প্রদর্শনী ক্রিকেট থেকেও বঞ্চিত করছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পিসিবির এই সিদ্ধান্ত মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে বেশি সমালোচিত হচ্ছে, কারণ একটি ব্যক্তিগত বা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণকে বোর্ড যেভাবে বাধার মুখে ঠেলে দিয়েছে, তা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিসিবির পক্ষ থেকে গত বছরই এই টুর্নামেন্টকে ভণ্ডামি ও পক্ষপাতিত্বমূলক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল এবং এই ইভেন্টে অংশগ্রহণ করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বোর্ডের দাবি, এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলার সঙ্গে রাজনীতি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের সংমিশ্রণ ঘটছে, যা পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় স্বার্থের পরিপন্থী। পিসিবির এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে আয়োজকরা সূচি পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে সমঝোতার পথ খুঁজলেও বোর্ড তাদের আগের অবস্থানেই অটল রয়েছে। পিসিবির এই একগুঁয়েমি কেবল দলটির অংশগ্রহণই বন্ধ করেনি, বরং টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও বিনোদনমূলক মানকেও ক্ষুণ্ণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বোর্ডের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং একইসঙ্গে খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যকার দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে পিসিবির পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার হুমকি ক্রিকেট বিশ্বে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা কেবল পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস দলের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে লেজেন্ডস ক্রিকেট বা প্রদর্শনীমূলক টুর্নামেন্টগুলোর ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চিত করে তুলছে। পিসিবির এই কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ যদি অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে অনেক সাবেক তারকা খেলোয়াড়ই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী ও দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল মাঠের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার, কিন্তু বোর্ডের এই সিদ্ধান্তহীনতা ও অনমনীয়তা শেষ পর্যন্ত খেলার মাঠের সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিল, যা বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

نظری یافت نشد


News Card Generator