মেসির বিদায়ী ম্যাচে অনুপস্থিত ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দুই তারকা: নেপথ্যে ক্লাবের কঠোর অবস্থান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মেসির বিদায়ী ম্যাচে অনুপস্থিত ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দুই তারকা: নেপথ্যে ক্লাবের কঠোর অবস্থান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মেসির বিদায়ী ম্যাচে অনুপস্থিত ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দুই তারকা: নেপথ্যে ক্লাবের কঠোর অবস্থান..
মেসির বিদায়ী ম্যাচে অনুপস্থিত ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দুই তারকা: নেপথ্যে ক্লাবের কঠোর অবস্থান..
ছবি: সংগৃহীত
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচে পাউলো দিবালা ও নাহুয়েল মলিনার অনুপস্থিতি নিশ্চিত করেছে এএস রোমা, যার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তি ও ক্লাবের ঠাসা ক্রীড়াসূচি।..

আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ২০৮তম এবং সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ১২৫টি গোল এবং একাধিক শিরোপা জয়ের সাক্ষী এই কিংবদন্তি ফুটবলারের বিদায়ী ম্যাচে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ সারথী পাউলো দিবালা ও নাহুয়েল মলিনার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের এই ঐতিহাসিক ম্যাচে আমন্ত্রণ জানালেও ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমা তাদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মূলত ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ এবং মহাদেশীয় দূরত্বের কারণে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে, যা তাদের পরবর্তী ক্লাব ম্যাচগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে থাকা মেসি ভক্তদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ তারা চেয়েছিলেন মেসির বিদায়ী মঞ্চে বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের একীভূত দেখতে।

ভুক্তভোগী খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি ব্যক্তিগত আবেগের চেয়ে ক্লাবের পেশাদারী কাঠামোর কাছে পরাজয়। পাউলো দিবালা এবং নাহুয়েল মলিনা জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে মেসির সাথে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে গভীর রসায়ন বিদ্যমান। রোমা কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিরতির পর ১১ অক্টোবর কোমোর বিপক্ষে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে এবং সেই প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই খেলোয়াড়দের দীর্ঘ যাত্রায় পাঠাতে তারা রাজি নয়। ভুক্তভোগী খেলোয়াড়দের জন্য এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং তাদের আদর্শ ও সতীর্থের বিদায়ী মুহূর্তের অংশ হওয়ার সুযোগ ছিল। ক্লাবের এই কঠোর অবস্থানের কারণে তারা সেই আবেগঘন পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা মাঠের বাইরের রাজনীতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট ক্লাব এএস রোমা তাদের অবস্থানে অনড় থাকলেও মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি তারা সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছে। ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই বিশেষ মুহূর্তের গুরুত্ব তারা অনুধাবন করে। তবে খেলার মাঠের হিসাব এবং যাতায়াতের ঝামেলার কথা উল্লেখ করে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা পেশাদার ফুটবলের কঠোর বাস্তবতাকে নির্দেশ করে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা আপিল করার উদ্যোগ নেয়নি। ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল, অন্তত এই একটি ম্যাচের জন্য ক্লাবগুলো তাদের খেলোয়াড়দের জাতীয় স্বার্থে ছাড় দেবে, কিন্তু বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াসূচির চাপে সেই প্রত্যাশা অপূর্ণই রয়ে গেল।

মেসির বিদায়ী ম্যাচে দুই সতীর্থের অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্লাব বনাম জাতীয় দলের দ্বন্দ্বকে পুনরায় উসকে দিয়েছে। ফিফা ক্যালেন্ডারের বাইরে আয়োজিত এই ধরনের প্রদর্শনী বা বিদায়ী ম্যাচের ক্ষেত্রে ক্লাবগুলোর বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেক সময় তারকা খেলোয়াড়রা তাদের সতীর্থের বিশেষ মুহূর্তে পাশে থাকতে পারেন না। এই ঘটনাটি ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্কৃতিতে এক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে ক্লাবের ব্যবসায়িক ও সূচিভিত্তিক স্বার্থকে বড় করে দেখা হচ্ছে। মেসির মতো একজন ফুটবল গ্রেটের শেষ ম্যাচে সতীর্থদের অনুপস্থিতি ফুটবল ইতিহাসে এক আক্ষেপের নাম হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

Geen reacties gevonden


News Card Generator