রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ ডাকসু ভিপি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ ডাকসু ভিপি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ ডাকসু ভিপি..
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ ডাকসু ভিপি..
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ১০ জন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন, যার প্রেক্ষিতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম দোষীদের বিচার ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার প..

গত ৫ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাধারণ শিক্ষার্থী ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস-এর নেতৃত্বে ছাত্রদলের একটি সশস্ত্র শোডাউনের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায় এবং সেই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে যান কর্মরত সাংবাদিকরা। এ সময় হামলাকারীরা রড, পাইপ ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালায়, যার ফলে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করার মতো নারকীয় কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, যা স্পষ্টত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর একটি সরাসরি আঘাত।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে বাধা প্রদানের পাশাপাশি শারীরিক লাঞ্ছনা করেছে। ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ধরনের সশস্ত্র শোডাউন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতাকে সংকুচিত করে দিচ্ছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা যখন পাইপ ও রড দিয়ে আঘাত করছিল, তখন তাদের উদ্দেশ্য ছিল তথ্যপ্রমাণ ধ্বংস করা এবং সংবাদকর্মীদের ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করা। এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের ফলে ক্যাম্পাসে একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়েও প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার রেশ ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এই নজিরবিহীন সহিংসতার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা এতোটাই প্রকট ছিল যে, স্বয়ং রাবি প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন এবং পুলিশও ঘটনাস্থল থেকে পিছু হটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এই ব্যর্থতাকে প্রশাসনের চরম উদাসীনতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে ঘটে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের হামলার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান বিচার হয়নি, বরং অভিযুক্তদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেছে। তিনি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দলীয় লেজুড়বৃত্তি ত্যাগ করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ক্যাম্পাসে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সাদিক কায়েম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে না ধরলে গণতান্ত্রিক চর্চা ও শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এটি ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার করতে প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো এবং প্রতিটি হামলার ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করাই এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মূল দাবি, যাতে করে পুনরায় কোনো শিক্ষার্থী বা সাংবাদিককে এমন বর্বরোচিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

לא נמצאו הערות


News Card Generator