অষ্টম শ্রেণি পাস ও এনআইডিহীন ব্যক্তির সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার সংস্থা নিয়ন্ত্রণ: প্রতারণার জালে দেশব্যাপী কার্ড বাণিজ্য.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অষ্টম শ্রেণি পাস ও এনআইডিহীন ব্যক্তির সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার সংস্থা নিয়ন্ত্রণ: প্রতারণার জালে দেশব্যাপী কার্ড বাণিজ্য..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
অষ্টম শ্রেণি পাস ও এনআইডিহীন ব্যক্তির সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার সংস্থা নিয়ন্ত্রণ: প্রতারণার জালে দেশব্যাপী কার্ড বাণিজ্য..
অষ্টম শ্রেণি পাস ও এনআইডিহীন ব্যক্তির সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার সংস্থা নিয়ন্ত্রণ: প্রতারণার জালে দেশব্যাপী কার্ড বাণিজ্য..
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক দর্জি ও সাপুড়ে আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী সুমন পেশাগত যোগ্যতা ও জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই দুটি পত্রিকার সম্পাদক ও মানবাধিকার সংস্থার যুগ্ম মহাসচিব সেজে দেশব্যাপী প্রতারণামূলক কার্ড বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।..

অষ্টম শ্রেণির গণ্ডি না পেরোনো এবং পেশায় সাবেক দর্জি ও সাপুড়ে আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী সুমন কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা কিংবা সাংবাদিকতার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই বর্তমানে দুটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা কেন্দ্র বা আসক-এর যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে বসে আছেন। অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুমন কোনো ধরনের বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি ছাড়াই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দুটি খাতকে পুঁজি করে নিজের প্রতারণার জাল বিস্তৃত করেছেন। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে হঠাৎ করেই তিনি সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারের মতো স্পর্শকাতর পেশায় আত্মপ্রকাশ করেন, যা মূলত তার পরিকল্পিত জালিয়াতির একটি অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো প্রকারের বৈধ নাগরিক পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী পদগুলোতে অধিষ্ঠিত হলেন, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সুমন দৈনিক সকালের পত্রিকা ও দৈনিক দিগন্ত সংবাদ নামে দুটি অনলাইন পোর্টাল খুলে সেগুলোকে জাতীয় দৈনিক প্রিন্ট পত্রিকা হিসেবে প্রচার চালিয়ে সারা দেশে প্রতিনিধি নিয়োগের নামে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। তিনি মূলত অদক্ষ, অশিক্ষিত এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সাংবাদিকতার ভুয়া পরিচয়পত্র বিক্রি করছেন। অটোচালক থেকে শুরু করে অপেশাদার ব্যক্তিদের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে তিনি হলুদ সাংবাদিকতার এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, যা মূলধারার সাংবাদিকতাকে চরমভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। এছাড়া আসক-এর মতো মানবাধিকার সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও তিনি নিলামের মতো বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সুমনের এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং সাংবাদিকতার মতো পবিত্র পেশার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পরিচয়হীন একজন ব্যক্তি কীভাবে সংবেদনশীল মানবাধিকার সংস্থার নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করছেন, সেটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, সাংবাদিকতা একটি বিশেষায়িত এবং দায়িত্বশীল পেশা, যেখানে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাদারিত্ব থাকা আবশ্যক। সেখানে অষ্টম শ্রেণি পাস ও জাতীয় পরিচয়পত্রহীন একজন ব্যক্তির এমন দাপুটে অবস্থান সাংবাদিকতার মানদণ্ডকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সুমন যে প্রতারণামূলক কার্ড বাণিজ্য ও পদ বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তা রোধ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সাংবাদিক সমাজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনো অযোগ্য ও ভুয়া পরিচয়ধারী ব্যক্তি যেন সংবাদমাধ্যম বা মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক যাতে পেশার মর্যাদা রক্ষা পায়।

জাতীয় পরিচয়পত্রহীন এই ব্যক্তির এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার খাতের মতো স্পর্শকাতর জায়গাগুলো দখল করে রাখা জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুমনের এই প্রতারণামূলক নেটওয়ার্ক কেবল সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণাই করছে না, বরং সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি ও মানবাধিকার রক্ষার আইনি কাঠামোকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এমন ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পেশাদার সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবেন এবং মানবাধিকারের নামে অপরাধীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তাই এই জালিয়াতি চক্রের মূলোৎপাটন করা এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় সামাজিক ও পেশাগত শৃঙ্খলা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং ভুয়া পরিচয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

没有找到评论


News Card Generator