রানীশংকৈলে ডেঙ্গুর প্রকোপ: একই পরিবারের চার সদস্য আক্রান্ত, পৌর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় জনমনে ক্ষোভ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রানীশংকৈলে ডেঙ্গুর প্রকোপ: একই পরিবারের চার সদস্য আক্রান্ত, পৌর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় জনমনে ক্ষোভ..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
রানীশংকৈলে ডেঙ্গুর প্রকোপ: একই পরিবারের চার সদস্য আক্রান্ত, পৌর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় জনমনে ক্ষোভ..
রানীশংকৈলে ডেঙ্গুর প্রকোপ: একই পরিবারের চার সদস্য আক্রান্ত, পৌর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় জনমনে ক্ষোভ..
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরসভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, যেখানে মশা নিধনে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতায় একই পরিবারের চার সদস্য ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।..

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি জুঁই ফিলিং স্টেশনের পার্শ্ববর্তী একটি পরিবারের চার সদস্য ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রাণীশংকৈল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এম. এস. এইচ. লিটনও রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার মশা নিধনে নিয়মিত কার্যক্রমের অভাব এবং লার্ভা ধ্বংসের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। মূলত মশা নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকাই এই সংক্রমণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাদের পরিবার গভীর উৎকণ্ঠায় থাকলেও, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বা মশা নিধন অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌর শহরে মশার উপদ্রব বৃদ্ধির বিষয়টি দীর্ঘসময় ধরে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং ফগার মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানোর দাবি জানানো হয়েছিল, কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। আক্রান্ত সাংবাদিক এম. এস. এইচ. লিটনসহ একই পরিবারের চারজনের অসুস্থতার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসিন্দাদের মতে, একটি পরিবারের চারজন আক্রান্ত হওয়া মানে হলো ওই এলাকায় মশার প্রজননস্থল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যদি এখনই মশা নিধনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণেই সাধারণ মানুষকে আজ ডেঙ্গু ঝুঁকির মধ্যে জীবন কাটাতে হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়েছে পৌরসভার মশা নিধন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা। পৌরসভা কার্যালয়ে মশা নিধনের যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ থাকার পরেও কেন সেগুলো নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছে যে, কোনো এলাকায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে সেই এলাকাটি হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। তবে রাণীশংকৈলের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, দায়সারা গোছের প্রচারণার চেয়ে বরং প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করাই এখন সময়ের বড় দাবি। কর্তৃপক্ষের এমন নিষ্ক্রিয়তা জনস্বাস্থ্য নীতিমালার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

পরিশেষে, রাণীশংকৈল পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন মশার ভয়ে বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার না করা হলে এবং ডেঙ্গুর উৎসস্থলগুলো ধ্বংস না করা হলে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের যে দায়ভার তৈরি হবে, তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। কেবল আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই নয়, বরং রোগটি যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য জরুরিভিত্তিতে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়রা মনে করছেন, এখনই যথাযথ নজরদারি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না থাকলে এই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

没有找到评论


News Card Generator