ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২৯০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক ২.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২৯০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক ২..

হাসিনুজ্জামান মিন্টু avatar   
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২৯০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক ২..
ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ২৯০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক ২..
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৯০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে ৫০ বিজিবি।..

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। গত রোববার রাত ১১টার দিকে উপজেলার চিকনি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫০ বিজিবির হাবিলদার মো. বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত পিলার ৩৭৩/১-এস থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ভেতরে অবস্থান নেয়। সেখানে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তাদের আটক করা সম্ভব হয়। আটকরা হলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কাশুয়া খাদেমগঞ্জ গ্রামের মৃত শের আলীর ছেলে মো. গোলাম মোস্তফা এবং উদয়পুর গ্রামের মো. শামউদ্দিনের ছেলে মো. আনছারুল হক। মাদকের বড় ধরনের একটি চালান পাচারের উদ্দেশ্যে তারা মোটরসাইকেলযোগে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।

আটকদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ২৯০ পিস ট্যাপেন্টাডল বর্তমানে চিকিৎসাক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ওষুধ হিসেবে স্বীকৃত হলেও সীমান্ত এলাকায় এটি মাদক হিসেবে অপব্যবহারের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিজিবির জব্দ তালিকায় মাদকদ্রব্য ছাড়াও একটি হিরো এইচএফ ডিলাক্স ১০০ সিসি মোটরসাইকেল, দুটি বাটন মোবাইল ফোন এবং দুটি সিম কার্ড রয়েছে, যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টাকা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এই ধরনের মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের নেশায় আসক্ত করতে এই ট্যাবলেটগুলো সহজলভ্য করা হচ্ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে এসব নিষিদ্ধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৫০ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে মাদক চোরাচালান, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে তাদের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও জব্দ করা মালামালসহ আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিজিবি কর্তৃপক্ষ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা মাদক সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিজিবি ক্যাম্পকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে। চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং বিজিবির এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযান মাদক নির্মূলে কতটা ভূমিকা রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে মাদকের অবাধ বিস্তার কেবল আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একটি চক্র তৈরি করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঠাকুরগাঁওয়ের এই অভিযান মাদক কারবারিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে শুধু আটক বা জব্দ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, বরং মাদকের উৎসস্থলগুলো চিহ্নিত করে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে চলাচল করতে পারে এবং মাদক ব্যবসার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় মাদকের অবৈধ অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

コメントがありません


News Card Generator