কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা: অভিনব কৌশল ভেস্তে দিল পুলিশ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা: অভিনব কৌশল ভেস্তে দিল পুলিশ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা: অভিনব কৌশল ভেস্তে দিল পুলিশ..
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা: অভিনব কৌশল ভেস্তে দিল পুলিশ..
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোটরসাইকেলের টায়ারের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে পাচারের সময় ১৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ শরীয়তপুরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।..

গত শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন মালুমঘাট ইউনিয়নের জলদাশ পাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে নুর মোহাম্মদ লিখন (৩১) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা লিখন একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলযোগে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার বড় একটি চালান নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। মহাসড়কে দায়িত্বরত চকরিয়া থানা পুলিশের বিশেষ টিম নিয়মিত চেকপোস্ট বসানোর সময় সন্দেহভাজন ওই মোটরসাইকেলটিকে থামানোর সংকেত দেয়। চালকের অস্বাভাবিক আচরণ ও নড়বড়ে পরিস্থিতির কারণে পুলিশি তল্লাশিতে মাদক পাচারের এই অভিনব কৌশলের বিষয়টি উন্মোচিত হয়, যা সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিখন স্বীকার করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তিনি মোটরসাইকেলের চাকার ভেতরে ইয়াবা লুকানোর কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। স্থানীয় মালুমঘাট বাজারের একটি টায়ার অ্যান্ড ভলকানাইজিং ওয়ার্কশপে নিয়ে চাকা খোলার পর পুলিশ ৩৮টি পোটলায় মোট ১৭ হাজার পিস ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট উদ্ধার করে। মাদক কারবারিদের এই ধরনের কৌশল সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যমগুলোকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মহাসড়কে রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল মাদক পাচারকারীদের জন্য এক প্রকার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, মাদক পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে, তবে পুলিশও এই ধরনের তৎপরতা রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জব্দকৃত মাদক এবং মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই সফল অভিযান মাদক সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক ভাঙার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট যে, দেশের অভ্যন্তরীণ মাদক পাচার চক্রগুলো এখন ব্যক্তিগত বাহনকে মাদক পরিবহনের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, যা ভবিষ্যতে সড়কপথে পুলিশের চেকপোস্টের কার্যকারিতা ও তল্লাশি পদ্ধতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মাদক পাচারের এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা অদূর ভবিষ্যতে আন্তঃজেলা মাদক চোরাচালানকে আরও বেগবান করতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রতিটি সন্দেহভাজন যানের কারিগরি ত্রুটি বা অস্বাভাবিক পরিবর্তনগুলোকে গুরুত্বের সাথে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে।

Nema komentara


News Card Generator