ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে খুলনায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রম শুরু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে খুলনায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রম শুরু..

LATIF MORAL avatar   
LATIF MORAL
ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে খুলনায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রম শুরু..
ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে খুলনায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রম শুরু..
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং পরিবীক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে।..

খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে রবিবার আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং বর্তমান সরকারের গৃহীত বিশেষ পরিবীক্ষণ দলের রূপরেখা ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে উপস্থিত কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। মূলত ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামী তিন মাসব্যাপী এই সমন্বিত কর্মসূচি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল প্রশাসনিক তৎপরতা নয় বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টির মাধ্যমে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির বর্তমান ঝুঁকি এবং এর প্রতিকারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতি শনিবার বাধ্যতামূলকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই কার্যক্রমের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রতি সপ্তাহে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। সভায় উপস্থিত সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় মশক নিধন ও বর্জ্য অপসারণের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর পরিবেশ তৈরি না হয়। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও কাজে লাগানোর প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোছা: রনী খাতুনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরিচ্ছন্নতা অভিযান কোনো সাময়িক কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে চলমান থাকবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি নজরদারি ও স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কেবল ডেঙ্গু পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। নিয়মিত পরিবীক্ষণ দল গঠনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই নজরদারি মূলত ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিশেষে, খুলনা জেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি রোধে একটি কার্যকর মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে। যদি এই তিন মাসব্যাপী কর্মসূচিটি যথাযথভাবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে, তবেই ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস পাবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনাই যথেষ্ট নয়, বরং নাগরিক সচেতনতাই এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান। ভবিষ্যতে পরিবহন ও জনসমাগমস্থলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার এই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে এবং ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের হাত থেকে খুলনা জেলা একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে।

没有找到评论


News Card Generator