পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার উপ-নির্বাচন: তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার উপ-নির্বাচন: তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিক..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার উপ-নির্বাচন: তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিক..
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার উপ-নির্বাচন: তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিক..
ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে বিজেপি, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।..

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার শূন্য আসনে আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপ-নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর পবিত্র তিথিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন কোয়েল। তবে সংসদীয় রাজনীতির কোনো কার্যক্রমে অংশ না নিয়েই গত জুলাই মাসে তিনি আকস্মিকভাবে নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এই অল্প সময়ের ব্যবধানে দলবদল এবং পুনরায় রাজ্যসভায় প্রবেশের দৌড়ে তার অংশগ্রহণ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।

অভিনেত্রীর এই রাজনৈতিক ডিগবাজিকে কেন্দ্র করে সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং পুনরায় প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই স্পষ্ট করে তোলে। সমালোচকদের মতে, কোনো সংসদীয় অধিবেশন বা জনসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের আগেই পদত্যাগ করা এবং পরবর্তীতে অন্য রাজনৈতিক ব্যানারে নির্বাচনের মাঠে নামা জনমতের প্রতি এক ধরণের অবজ্ঞা। সাইকোলজিতে উচ্চশিক্ষিত কোয়েল মল্লিকের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ ভোটারের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে, যে আসনে তিনি পূর্বে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই একই আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি রাজনৈতিক নৈতিকতার সংকীর্ণতাকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এই মনোনয়নকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপির দাবি, জনপ্রিয় মুখ হিসেবে কোয়েল মল্লিক তাদের দলের আদর্শ ও লক্ষ্যকে সংসদে তুলে ধরবেন। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কঠোর প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে দলীয় অন্দরমহলে এই দলত্যাগকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ১৬ অক্টোবর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করায় উৎসবের আমেজের মধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে থাকবে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছে যে, একজন জনপ্রতিনিধি যেন শুধুমাত্র ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে সংসদকে ব্যবহার না করেন, বরং তার দায়বদ্ধতা যেন জনগণের প্রতি নিশ্চিত থাকে।

ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে কোয়েল মল্লিকের এই মনোনয়ন পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিনোদন জগতের তারকাদের রাজনীতিতে আসার প্রবণতা নতুন কিছু নয়, তবে তাদের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বারবার দল পরিবর্তনের সংস্কৃতি সুস্থ রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না। আসন্ন উপ-নির্বাচনের ফলাফল কেবল কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকেই প্রভাবিত করবে না, বরং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত এই নাটকীয় পরিবর্তনের রায় কীভাবে দেবেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষায় প্রার্থী কতটা সচেষ্ট হবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator