কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত দুটি পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের আগরপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায়, যেখানে শেরপুর থেকে আসা এক মোটরসাইকেল চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর বাহনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এর ঠিক পরের দিন শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর রাজগোপাট সড়কে রিমন মিয়া নামের এক যুবককে টার্গেট করে ছিনতাইকারীরা। সেখানে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে ওই যুবকের চোখ বেঁধে মারধর ও জখম করে নগদ ১০ হাজার টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়।
দুটি ঘটনাতেই অপরাধীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে যাত্রীদের গতিরোধ করে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুলিয়ারচরের নোয়াগাঁও ও আগরপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে রাতের বেলা ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের নির্জন অংশগুলোতে প্রায়ই গাছ ফেলে বা ব্যারিকেড দিয়ে মোটরসাইকেল ও ছোট ছোট যানবাহনে হামলা চালানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী রিমন মিয়ার স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ছিনতাইকারীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করছে, যার ফলে ভুক্তভোগীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং পুলিশের নিয়মিত টহলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে এখন গভীর রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, দুটি ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভুক্তভোগীরা শারীরিক জখম ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে থানায় অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত বোধ করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।