মেট্রোরেল সম্প্রসারণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল কর্মযজ্ঞ: সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মেট্রোরেল সম্প্রসারণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল কর্মযজ্ঞ: সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মেট্রোরেল সম্প্রসারণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল কর্মযজ্ঞ: সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদন..
মেট্রোরেল সম্প্রসারণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল কর্মযজ্ঞ: সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদন..
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত কাজের জন্য ৪৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রি..

রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের এমআরটি লাইন-১ এবং লাইন-৫-এর বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় উন্নয়ন কাজের জন্য প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সংক্রান্ত আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করা হয়। অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ পথ, উড়ালপথ, স্টেশন নির্মাণ, ডিপো স্থাপন এবং অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক ও সংকেত ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে অর্থায়ন করছে, যার মেয়াদ ২০৩৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসন এবং দ্রুতগতির যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যেই এই মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি প্যাকেজের বিপরীতে বিশাল আর্থিক বরাদ্দের পাশাপাশি দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও তাদের প্রস্তাবিত দরের বিষয়টি এখন জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, লাইন-১ প্রকল্পের সিপি-৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপনের জন্য প্রায় ১১ হাজার ৬৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, যেখানে সুপারিশকৃত দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই চিত্র দেখা গেছে সিপি-১০ প্যাকেজেও, যেখানে সংকেত ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য প্রায় ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এখানকার দরও প্রাক্কলিত দরের চেয়ে প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি। এছাড়া সিপি-৬ প্যাকেজের ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রাক্কলিত দরের তুলনায় ৩২ শতাংশ বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, প্রকল্প ব্যয় প্রাক্কলিত বাজেটের চেয়ে এত বিশাল ব্যবধানে কেন বাড়ছে এবং এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত করদাতাদের ওপরই বর্তাবে কি না, তা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং কারিগরি জটিলতার কারণে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলিত দরের চেয়ে কিছুটা বেশি ব্যয় হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং প্রাক্কলিত দরের মধ্যকার এই বিশাল ব্যবধান সরকারি অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি করে। চীনের সিআরইসি, জাপানের নিশিমাতসু, ভারতের এলঅ্যান্ডটিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি দরপত্রই কারিগরিভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং সর্বনিম্ন দরদাতাকেই কাজ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়, কেন প্রাক্কলিত দরের সঙ্গে বাজারের দরের এত বড় অসামঞ্জস্য তৈরি হলো এবং কেনই বা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে, যা স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

এই মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঢাকা শহরের গণপরিবহন খাতে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা করা হলেও, প্রকল্প ব্যয়ের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ বাড়িয়ে দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ২০৩৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন না হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি করবে। এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫-এর এই বিশাল ব্যয়ভার বহন করার পাশাপাশি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা এখন কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নগরবাসী আশা করছে, উন্নয়নের নামে জনগনের ট্যাক্সের অর্থের যেন কোনোভাবেই অপচয় না হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে সাধারণ মানুষ।

Комментариев нет


News Card Generator