চট্টগ্রামে ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধের ডাক: সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের গোলটেবিল বৈঠক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চট্টগ্রামে ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধের ডাক: সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের গোলটেবিল বৈঠক..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চট্টগ্রামে ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধের ডাক: সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের গোলটেবিল বৈঠক..
চট্টগ্রামে ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধের ডাক: সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের গোলটেবিল বৈঠক..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।..

চট্টগ্রাম মহানগরী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেভাবে জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, তা মোকাবিলায় এবার নড়েচড়ে বসেছে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগ। সম্প্রতি শহরজুড়ে ছিনতাই, হামলা, খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি নিরসনে ও অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে আয়োজিত হতে যাচ্ছে একটি বিশেষ গোলটেবিল বৈঠক। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ এবং বুদ্ধিজীবীসহ সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অপরাধের মূল কারণ ও তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। প্রশাসনের একার পক্ষে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ যে সম্ভব নয়, বরং সামাজিক প্রতিরোধই এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান, সেই মূল লক্ষ্য নিয়েই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক ও স্থানীয়দের মতে, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য এখন এতটাই বেড়েছে যে, রাস্তাঘাটে চলাফেরা করাই দায় হয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন, কারণ তরুণ প্রজন্ম খুব সহজেই মাদকের মরণফাঁদ ও গ্যাং কালচারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়, বরং পাড়ায়-মহল্লায় সামাজিক নজরদারি ও পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। আয়োজকদের মতে, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নজরদারি বাড়ানো এবং তরুণদের অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করাই বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তারা মনে করছেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বয়কট করার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি, নতুবা এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখলেও সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আয়োজক সংগঠনের ভাষ্যমতে, গোলটেবিল বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আইন প্রয়োগে সমন্বয় বাড়ানো এবং অপরাধ দমনে নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা এবং মাদক নির্মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাথে নাগরিক সমাজের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব পেশ করা হবে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত ও সুপারিশগুলো একটি খসড়া রূপরেখা হিসেবে গ্রহণ করা হবে, যা পরবর্তীতে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে হস্তান্তর করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধ দমনে সামাজিক অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম তথা পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশ তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা পরিবহন খাত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবনযাত্রায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি এই বৈঠকের সুপারিশগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তরুণ প্রজন্মের অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে। আগামী দিনে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে এই সামাজিক প্রতিরোধই হতে পারে মাইলফলক। তবে বৈঠকের পর কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে যদি এই কর্মপরিকল্পনা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবেই সাধারণ মানুষ প্রকৃত নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত হওয়ার সুফল ভোগ করতে পারবে।

No comments found


News Card Generator