ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বার উন্মোচন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বার উন্মোচন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বার উন্মোচন..
ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বার উন্মোচন..
ছবি: সংগৃহীত
ফেনী জেলাকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক দিনের সরকারি সফর শুরু হয়েছে, যেখানে তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পালন করছেন।..

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টায় গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটি তার প্রথম ফেনী সফর হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচি মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সাজানো হয়েছে। দিনের শুরুতেই পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। মূলত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন এই সফরের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যার টেকসই সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সফরটি নির্ধারিত থাকলেও তা স্থগিত হয়ে নতুন তারিখ হিসেবে ১ অক্টোবর চূড়ান্ত করা হয়।

সফরের মূল আকর্ষণ হিসেবে দুপুর সাড়ে ১২টায় পরশুরামের ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন এবং ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলের নদী ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিলেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের পাশাপাশি ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে কৃষি ও জনজীবনে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন তাদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আয়ের পথ সুগম করবে।

উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন। এছাড়া রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী হস্তান্তর কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল করার পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনবে। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে যাতে উন্নয়নের সুফল দ্রুত প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছায়।

বিকাল সাড়ে ৫টায় সড়কপথে ফেনী ত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সমাপ্ত হবে। এই সফরের প্রভাব কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ফেনীর সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গৃহীত এই সমন্বিত কর্মসূচিগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় উন্নয়নে একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জনপদগুলোর জন্য সুফল বয়ে আনবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ফেনীবাসীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রত্যাশাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator