চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়া নিয়ে নিষিদ্ধ লীগ নেতার পলায়ন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়া নিয়ে নিষিদ্ধ লীগ নেতার পলায়ন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়া নিয়ে নিষিদ্ধ লীগ নেতার পলায়ন..
চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়া নিয়ে নিষিদ্ধ লীগ নেতার পলায়ন..
ছবি: সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় গ্রেপ্তারের পর পরিবারের সদস্যদের হামলায় পুলিশের হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে গেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতা আবু ছিদ্দিক।..

বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এক নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দর্শনা থানার পুলিশ সদস্যরা যখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতা ও ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তার পরিবারের সদস্যরা অতর্কিত আক্রমণ চালায়। পুলিশের ওপর এই হামলার সুযোগ নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই আবু ছিদ্দিক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং পুলিশের ওপর সরাসরি আক্রমণের দুঃসাহসিকতাকে নির্দেশ করে। অভিযুক্ত আবু ছিদ্দিক কেবল স্থানীয় চণ্ডীপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতিই নন, বরং একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার এই পলাতক হওয়া এবং পুলিশকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জনমনে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যদের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারের সময় আবু ছিদ্দিকের পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পুলিশ সদস্যরা নিজেদের আত্মরক্ষার পাশাপাশি অভিযুক্তকে হেফাজতে রাখতে হিমশিম খান। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও এই এলাকায় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা প্রায়শই বাধার সম্মুখীন হন। পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনাটি স্থানীয় অপরাধীদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করছে। হাতকড়া পরা অবস্থায় একজন আসামির এভাবে পালিয়ে যাওয়া পুলিশের নিরাপত্তা কৌশল এবং ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েনের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ঘটনার পরপরই দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল্লাহ এবং দর্শনা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মুখলেসুর রহমান জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে চণ্ডীপুর হালদারপাড়ার বাসিন্দা লক্ষ্মণ, ফিরোজ, কণা ও সোনালীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে। পুলিশের ওপর হামলার দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে ভবিষ্যতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস না পায়।

এই ঘটনাটি কেবল একজন আসামির পলায়ন নয়, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে আইনের শাসনের প্রতি এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। একজন নিষিদ্ধ দলের নেতার এভাবে পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য পেশাদারিত্বের সংকটের ইঙ্গিত দেয়। একইসাথে, পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পুলিশের ওপর হামলা প্রমাণ করে যে, অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরণের শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই ঘটনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে, কারণ এটি অপরাধীদের মনে আইনের প্রতি ভয় কমিয়ে দিচ্ছে। পুলিশের মনোবল অটুট রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পলাতক আবু ছিদ্দিককে দ্রুত গ্রেপ্তার করার কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায়, দুর্গম এলাকায় পুলিশের স্বাভাবিক টহল ও নিয়মিত অভিযানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator