পাবনা শহরের ইন্দারা মোড় এলাকা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবকে তার ১০ থেকে ১২ জন অনুসারীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের এই নেতা মূলত একটি নাশকতামূলক মিছিলের প্রস্তুতিকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা সদর থানা পুলিশ ও সিআরটি দলের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই নেতার বিরুদ্ধে সুজানগর থানায় পুলিশের ওপর হামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে একটি রেস্তোরাঁর সামনে অবস্থান করছিলেন, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ এবং ভয়াবহ। চলতি বছরের জুলাই মাসে সুজানগরে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং থানার তৎকালীন ওসি মোজাফফর হোসেনসহ দায়িত্বরত একাধিক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রকাশ্যে পুলিশের ওপর হামলা চালানো এবং বিস্ফোরকদ্রব্য ব্যবহারের মতো ধৃষ্টতা দেখানোর পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার এই কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে এলাকায় যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল, তা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। আইন হাতে তুলে নেওয়ার এমন প্রবণতা এবং প্রশাসনের ওপর সরাসরি আক্রমণের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়দের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, তার অনুসারীদের ভীতি এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওহাবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে তার সাথে থাকা অনুসারীদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নাশকতা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ওহাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা পুরনো মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া এখন আরও গতিশীল করা হয়েছে এবং দ্রুত চার্জশিট প্রদানের কাজ চলছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আব্দুল ওহাবের গ্রেপ্তার পাবনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কেবল এক ব্যক্তির গ্রেপ্তার নয়, বরং আইন অমান্যকারী ও নাশকতায় লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থাকা একজন প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তার স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে পরিবহন খাতসহ জনজীবনের স্বাভাবিক গতিধারা বজায় রাখতে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে প্রশাসনের এই ধরনের নজরদারি অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে অপরাধের সাথে জড়িত প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর পুলিশের ওপর হামলা বা নাশকতার সাহস না পায়।