চাঁদপুরের হাইমচরে রাসেলস ভাইপারের দংশনে শিশু আহত: আতঙ্ক বাড়ছে জনপদে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরের হাইমচরে রাসেলস ভাইপারের দংশনে শিশু আহত: আতঙ্ক বাড়ছে জনপদে..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরের হাইমচরে রাসেলস ভাইপারের দংশনে শিশু আহত: আতঙ্ক বাড়ছে জনপদে..
চাঁদপুরের হাইমচরে রাসেলস ভাইপারের দংশনে শিশু আহত: আতঙ্ক বাড়ছে জনপদে..
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের হাইমচরে তিন বছরের এক শিশুকে রাসেলস ভাইপার সাপ দংশন করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।..

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ কান্দি গ্রামে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাসেলস ভাইপারের দংশনের শিকার হয়েছে মরিয়ম আক্তার নামের তিন বছর বয়সী এক শিশু। বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করার সময় বিষধর এই সাপটি আকস্মিকভাবে শিশুটির ওপর চড়াও হয় এবং দংশন করে দ্রুত আত্মগোপন করার চেষ্টা করে। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং মরিয়মের ইশারায় সাপটির অবস্থান শনাক্ত করেন। অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে স্বজনরা বিষধর সাপটিকে জীবিত অবস্থায় ধরে একটি বোতলে বন্দি করেন এবং দ্রুত তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার আকস্মিকতা এবং রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এই জনপদে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ভুক্তভোগী মরিয়মের বাবা মনির গাজী জানিয়েছেন, বাড়ির উঠানে খেলা করার সময় শিশুটি যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে তা যেকোনো পরিবারের জন্য ভয়াবহ। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর শিশুটিকে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়, যা তার প্রাণ বাঁচানোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে রাসেলস ভাইপারের অবাধ বিচরণ বৃদ্ধি পেলেও বন বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সচেতনতামূলক উদ্যোগ বা সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, সাপটির প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত, কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ এখনো বিষধর সাপের দংশন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও সচেতনতা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক জানিয়েছেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি ছিল। চিকিৎসকদের মতে, রাসেলস ভাইপারের দংশনের পর অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলেও পরবর্তী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়, কারণ বিষের প্রভাবে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, সাপের উপদ্রব কমাতে স্থানীয়ভাবে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা এবং চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার কোনো বিকল্প নেই। তবে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমের মজুদ এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে সাধারণ মানুষ দ্রুত সেবা পেতে পারে।

রাসেলস ভাইপারের এই উপদ্রব কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এক নতুন জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দেয়। কৃষিজমি ও বসতবাড়ির আশেপাশে বিষধর সাপের উপস্থিতি গ্রামীণ জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করছে এবং মানুষের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিশুদের মতো নাজুক বয়সের মানুষ যখন এই পরিস্থিতির শিকার হয়, তখন তা পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। ক্রমবর্ধমান এই সমস্যা সমাধানে বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম ও দক্ষ জনবলের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator