খুলনার ডুমুরিয়ায় সম্প্রতি সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এক বর্ণিল হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে সোনামুখ স্মার্ট একাডেমির নিজস্ব ভবনে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৬৩ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, ধৈর্য এবং লেখার মান যাচাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সেরাদের সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে রাফিয়া, তাবিয়া ও তানিসা। অনুষ্ঠানের মূল পর্বে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী ড. সালাম আজাদ, প্রফেসর হাফিজুর রহমান, শিক্ষানুরাগী মাসুদ মাহমুদ ও হারুনার রশিদ খান। সোনামুখ স্মার্ট একাডেমির প্রিন্সিপাল হোসাইন আহম্মেদ পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার করেছে। মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শুদ্ধ ও সুন্দর হাতের লেখার চর্চা ও মনোযোগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিযোগিতার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে সোনামুখ স্মার্ট একাডেমির শিক্ষার্থীরা অনবদ্য দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। নির্বাচিত ৬৩ জন বিজয়ীর মধ্যে একাই ৫৪ জন শিক্ষার্থী এই একাডেমি থেকে উঠে এসেছে, যা ওই প্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের নিবিড় চর্চার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সোনামুখ স্মার্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা কামরুল ইসলাম রচিত একটি বিশেষ নাটিকা, যার মাধ্যমে বিজয়ীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, প্রচলিত সনাতন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নাটকের মাধ্যমে সৃজনশীলভাবে সেরাদের সেরা নির্বাচন করার এই পদ্ধতিটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন এবং ব্যতিক্রমী, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার চেয়েও বড় পরিসরে আনন্দ ও শেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতের লেখার মান এবং তাদের শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রফেসর হাফিজুর রহমান বলেন, ডিজিটাল যুগে যখন শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে, তখন সুন্দর হাতের লেখার চর্চা তাদের ধৈর্য ও একাগ্রতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আয়োজক কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন ভবিষ্যতে নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ডুমুরিয়ার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, যে পদ্ধতিতে বিজয়ীদের বাছাই করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
পরিশেষে, ডুমুরিয়ার এই প্রতিযোগিতাটি কেবল হাতের লেখার দক্ষতা যাচাই নয়, বরং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ পেলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও সৃজনশীল কাজে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম। এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে ডুমুরিয়ার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের নান্দনিক বোধ ও শৈল্পিক মানসিকতা গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।