চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের খিলমোগল ইশান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় গত শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে উজ্জ্বল শীল নামে এক প্রবাসী মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে আসা উজ্জ্বল নিজ এলাকায় অবস্থানকালেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো অসাবধানতাবশত খোলা বৈদ্যুতিক তার বা ত্রুটিপূর্ণ সংযোগের সংস্পর্শে আসায় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন, কিন্তু চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রচেষ্টার পরেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন, যা স্থানীয় জনপদসহ নিহতের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাজুড়ে এক প্রকার আতঙ্ক ও বিষাদ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী উজ্জ্বল শীলের মৃত্যুর ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয় বরং এলাকার বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা আগে থেকেই জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। উজ্জ্বল শীলের স্বজনদের ভাষ্যমতে, সঠিক সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের তদারকি থাকলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল। তারা দাবি করছেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের যে জরাজীর্ণ অবস্থা বিদ্যমান, তা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রবাস থেকে ফেরার পর নিজ বাড়িতে স্বজনদের সাথে সময় কাটানোর পরিবর্তে এমন নির্মম পরিণতি মেনে নেওয়া পরিবারের সদস্যদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ দায়সারা বক্তব্য প্রদান করলেও মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের নজির নেই। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দুর্ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং তারা লাইন মেরামতের কাজ নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মতে, কাগজে-কলমে রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলা হলেও বাস্তবে লাইনগুলোর মান উন্নয়ন বা ঝুলে থাকা তার অপসারণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর দায়ভার নিয়ে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক তদন্তের আশ্বাস দেয়নি, যা জনসাধারণের মাঝে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে। নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক সংযোগের ঝুঁকি কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি ও নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়া তথা সামগ্রিক গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ নিরাপত্তার বিষয়টি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। উজ্জ্বল শীলের অকাল প্রস্থান কেবল একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বরং অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনের অনিরাপদ অবস্থাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলা দূর করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগগুলো দ্রুত সংস্কার করা অপরিহার্য। নতুবা বিদ্যুৎ সেবার নামে সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি কেবল বাড়তেই থাকবে, যা পরিবহন ও জননিরাপত্তা খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।