বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে আধিপত্য বিস্তার এবং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা থেকেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পৃথকভাবে আনন্দ মিছিল বের করে। দুটি পক্ষই তাদের নিজ নিজ শক্তির জানান দিতে মহড়া নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে এসে পৌঁছালে উভয় মিছিল মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। ঠিক সেই মুহূর্তেই দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণের মতো একটি শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও আনন্দঘন আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য রাজপথে রাজনৈতিক সংগঠনের এই হানাহানি পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার জন্ম দেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন ক্যাম্পাসে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রত্যাশা করছিল, ঠিক তখন রাজনৈতিক হীনস্বার্থ এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে পুরো গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় সাধারণ পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। দুপক্ষের নিক্ষিপ্ত ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পথচারী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন, যা রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার নির্মম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার পরিবর্তে পেশিশক্তি প্রদর্শনের এই অপসংস্কৃতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ভীতি ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। কলেজ প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে নিজেদের ইচ্ছেমতো শোডাউন করার সাহস পাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিরীহ জনতাকে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়। তবে এই সংঘর্ষের পুরো সময়জুড়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে, ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তীব্র গরমে ও ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্পোহ পোহাতে বাধ্য হন এবং ব্যস্ততম এই সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কলেজ ক্যাম্পাসে এ ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতি রোধ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কলেজ কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। অতীতেও এই এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নানা অসন্তোষ ও মৃদু উত্তেজনার নজির রয়েছে, যা আজকের এই সহিংস ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি স্থানীয় পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এসব ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে আগামী দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে। পরিশেষে, শিক্ষাঙ্গনকে সকল ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত করে একটি নিরাপদ ও জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখনই জোরালো ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
সুনামগঞ্জে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও
সুনামগঞ্জে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট..
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে তীব্র যা..
No se encontraron comentarios