দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত কঠোর হাতে দমন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত কঠোর হাতে দমন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত কঠোর হাতে দমন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী..
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত কঠোর হাতে দমন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী..
ছবি: সংগৃহীত

দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী চক্রের সব ষড়যন্ত্র রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে।..

বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের কালিবাড়ী মোড়সংলগ্ন চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক নাশকতার তীব্র সমালোচনা করে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন। দেশজুড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক নৈরাজ্য ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসের জোরালো প্রতিবাদ জানাতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো অপতৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। কিশোরগঞ্জ শহরের রথখলা এলাকার জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ী মোড় এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়, যেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, একটি কুচক্রী মহল সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যে এই নাশকতা চালিয়েছে, যা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না এবং অতীতে যেভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসিবাদকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছিল, প্রয়োজনে আবারও একই কায়দায় এই দুষ্কৃতকারীদের দমন করা হবে।

সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন যে, পর্দার আড়ালে বসে বা নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার নস্যাৎ করার চক্রান্ত প্রতিহত করতে সরকার ও সাধারণ জনগণ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, যারা অতীতে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে এবং মাতৃসম নারীদের বুক খালি করেছে, তাদের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো অবকাশ নেই, বরং অবিলম্বে তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি যেকোনো মূলلে জনগণের ভোটাধিকার এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাম্প্রতিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, বাস পুড়িয়ে বা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার দিন শেষ হয়ে গেছে, এবং রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিকেরা জনগণের নিরাপত্তা বিধানে সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ রয়েছে। এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যে অপচেষ্টা চলছে, তার শেকড় উৎপাটন করতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব যৌথভাবে কাজ করছে বলে সমাবেশে জানানো হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক নাশকতা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে সুদূরপ্রসারী কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত কাজ করছে, যার উপযুক্ত জবাব দিতেই সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা এখন মাঠে সোচ্চার হয়েছেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর হুশিয়ারি কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির বক্তব্য নয়, বরং এটি সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক বাস পোড়ানোর ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে না দেখে এটিকে একটি সুপরিকল্পিত অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করে এর নেপথ্য কারিগরদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি উঠেছে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। জনগণের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফসল হিসেবে অর্জিত গণতন্ত্র এবং বাকস্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে এই ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে সচেতন মহল মনে করছে। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা টিকিয়ে রাখতে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।

সবমিলিয়ে কিশোরগঞ্জের এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিমন্ত্রীর কঠোর বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় ধরনের বার্তা প্রদান করেছে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অরাজকতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্তকারী চক্রটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বয়কট করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং পরিবহন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে দুর্বৃত্তরা আর কখনো জনগণের সম্পত্তিতে হাত দেওয়ার সাহস না পায়। পরিশেষে, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে এবং যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ও জনতা একযোগে কাজ করে যাবে—এমন সুদৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়েই এই রাজনৈতিক কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

没有找到评论


News Card Generator