ব্যস্ততার আড়ালে হারিয়ে যাওয়া ‘অপ্রতিম’ এবং আমাদের অন্তহীন অনুশোচনা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ব্যস্ততার আড়ালে হারিয়ে যাওয়া ‘অপ্রতিম’ এবং আমাদের অন্তহীন অনুশোচনা..

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
ব্যস্ততার আড়ালে হারিয়ে যাওয়া ‘অপ্রতিম’ এবং আমাদের অন্তহীন অনুশোচনা..
ব্যস্ততার আড়ালে হারিয়ে যাওয়া ‘অপ্রতিম’ এবং আমাদের অন্তহীন অনুশোচনা..
ছবি: সংগৃহীত
আপনার সন্তানকে আপনি দামী গ্যাজেট, নামী স্কুল বা পকেটভর্তি টাকা হয়তো দিতে পারছেন, কিন্তু তার মানসিক স্বাস্থ্যের খবর রাখছেন কি?..
 
 
সালাউদ্দিন আকবর , ঢাকা, 
 
 
অপ্রতিম—একটি নাম, একটি সম্ভাবনা, এবং আজ একটি বুকফাটা হাহাকার। হাজারো তরুণ আজ হাজারো নেশায় মগ্ন। কারো মাঠ কাঁপানো খেলার নেশা, কারো দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়ানোর নেশা, কারো চার ইঞ্চি স্ক্রিনের মোবাইল নেশা, আর কারো বা ক্যামেরার লেন্সে বন্দি করা ফটোগ্রাফির নেশা। আমাদের অপ্রতিমের নেশাটাও ছিল তেমনই সুন্দর—ফটোগ্রাফি। আলো-ছায়ার খেলায় যে ছেলেটি জীবনকে ফ্রেমে বন্দি করতে চেয়েছিল, সে নিজেই আজ এক অনন্ত অন্ধকারের ফ্রেমে বন্দি হয়ে গেছে। তার এই অকাল প্রস্থান আজ পুরো বাংলাদেশকে শোকাহত করেছে, স্তব্ধ করে দিয়েছে।
তবে অপ্রতিমের এই চলে যাওয়া শুধু শোকের নয়, বরং সমাজ এবং বিশেষ করে আমাদের কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য এক বিরাট সতর্কবার্তা বা ‘মেসেজ’ দিয়ে গেছে।
 
অপ্রতিমের আরেকটি আসক্তি ছিল—নিজের বয়সের চেয়ে বড়দের সাথে আড্ডা দেওয়া। সেই আড্ডার সবাই খারাপ ছিল না, অনেকেই হয়তো তথাকথিত ‘ভালো ছেলে’ ছিল। কিন্তু সেই দলেই আবার কেউ কেউ ছিল মারাত্মক নেশায় আসক্ত। মনস্তত্ত্ব বলে, কাঁচা বয়সের কৌতূহল আর বড়দের নকল করার প্রবণতা কিশোর মনকে খুব সহজেই গ্রাস করে। যে ছেলেটি এমন এক মিশ্র আড্ডায় আসক্ত হয়ে পড়ে, সে সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত কী শিখবে, তা সত্যিই আমাদের জানা থাকে না। ভালো ও মন্দের সেই দোলাচলে অনেক সময়ই মন্দের পাল্লা ভারী হয়ে যায়, যা একজন সন্তানকে তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে দেয়।
 
আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে বাবা-মা দুজনেই কর্মজীবী হওয়াটা অবাস্তব কিছু নয়। জীবনের তাগিদে, সন্তানের সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য আপনাদের দিন-রাত পার করতে হয় নানামুখী ব্যস্ততায়। কিন্তু এই ব্যস্ততার আড়ালে সন্তান যেন একা না হয়ে পড়ে।
আপনার সন্তানকে আপনি দামী গ্যাজেট, নামী স্কুল বা পকেটভর্তি টাকা হয়তো দিতে পারছেন, কিন্তু তার মানসিক স্বাস্থ্যের খবর রাখছেন কি? আপনার সন্তান কী ভাবছে, কার সাথে মিশছে, তার মনের ভেতর কোনো ঝড় বইছে কি না—তা জানার জন্য সময় বের করা আজ সবচেয়ে জরুরি। সন্তানদের মূল লক্ষ্যবস্তু বা মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত আপনার গভীর মমতা এবং মানসিক পর্যবেক্ষণ। তাকে শুধু শাসন নয়, বরং স্নেহের বাঁধনে ‘কন্ট্রোলে’ বা নিয়ন্ত্রণে রাখাটা এই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
 
আমরা যতই মুখে বলি—সন্তান এই ধরত্রির মহানায়ক, প্রকৃতির অভিভাবক; যতই ভাবি তারা একদিন ডালপালা মেলে, শাখাপ্রশাখায় কালান্তরে ঢাকবে আমাদের এই চেনা পৃথিবী; তবুও ভুলে গেলে চলবে না—সেই সন্তানের মুকুল কিন্তু আপনার শেকড়েই প্রোথিত। শেকড় যদি দুর্বল বা পুষ্টিহীন হয়, তবে ডালপালা যতই মহীরুহ হোক না কেন, তা এক ঝটকায় ভেঙে পড়তে বাধ্য।
 
অপ্রতিম আজ নেই। কিন্তু হাজারো অপ্রতিম এখনও আমাদের ঘরে ঘরে বেড়ে উঠছে। কর্মব্যস্ততার অজুহাতে আর কোনো সন্তান যেন ভুল আড্ডায় বা অন্ধকারের নেশায় হারিয়ে না যায়। সন্তানকে সময় দিন, তার বন্ধু হোন। ডালপালা আকাশ ছুঁক, কিন্তু তার শেকড়টা যেন আপনার ভালোবাসার বুকেই শক্ত করে বাঁধা থাকে।
Inga kommentarer hittades


News Card Generator