পূর্বধলায় ধর্মীয় জমায়েতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর রাজনৈতিক দোয়া চাওয়ার তৎপরতা নিয়ে জনমনে আলোচনা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পূর্বধলায় ধর্মীয় জমায়েতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর রাজনৈতিক দোয়া চাওয়ার তৎপরতা নিয়ে জনমনে আলোচনা..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
পূর্বধলায় ধর্মীয় জমায়েতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর রাজনৈতিক দোয়া চাওয়ার তৎপরতা নিয়ে জনমনে আলোচনা..
পূর্বধলায় ধর্মীয় জমায়েতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর রাজনৈতিক দোয়া চাওয়ার তৎপরতা নিয়ে জনমনে আলোচনা..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার পূর্বধলায় একটি ধর্মীয় জলসায় উপস্থিত হয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়া চেয়েছেন যুবদল নেতা আবু বকর রানা, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।..

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার সরিস্তলা বাজারে আয়োজিত এক পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আজিমুশশান ইসলামী জলসায় রাজনৈতিক উপস্থিতির মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা আবু বকর রানা। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮ নম্বর বিশকাকুনি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি এই ধর্মীয় জমায়েতে যোগ দেন এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে নিজের রাজনৈতিক প্রার্থনার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। সাধারণত ধর্মীয় সভা বা আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক প্রচার বা প্রার্থনার আবেদন সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যা গ্রামীণ জনপদে নির্বাচনী উত্তাপকে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাড়িয়ে দিয়েছে। জলসার মতো একটি পবিত্র ও অরাজনৈতিক আধ্যাত্মিক মঞ্চকে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার বা প্রার্থীর জনসমর্থন আদায়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা স্থানীয় সচেতন মহলের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। আয়োজকদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার কথা থাকলেও সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এভাবে নিজেদের প্রার্থনার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনা মাঠের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আবু বকর রানা স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন এবং নিজের রাজনৈতিক উচ্চাশার কথা স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন যে আসন্ন নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারলে বিশকাকুনি ইউনিয়নের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও কঠোর দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করবেন। এছাড়াও তিনি এলাকায় যেকোনো ধরনের অন্যায়, অবিচার ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে প্রতিহত করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং এলাকার দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতির স্বার্থেই তিনি নিজেকে উৎসর্গ করতে চান বলে উপস্থিত জনতার সামনে অভিমত প্রকাশ করেন। তবে ভুক্তভোগী ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশের মতে, নির্বাচনের এখনও যথেষ্ট সময় বাকি থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় জমায়েতের পবিত্রতাকে কাজে লাগিয়ে এভাবে ভোট চাওয়া বা দোয়া প্রার্থনা করা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং নির্বাচনী আচরণবিধির সীমারেখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। গ্রামীণ জনপদের সহজ-সরল মানুষকে প্রভাবিত করার এই কৌশল স্থানীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ভোটারদের মাঝে নানা সমীকরণ ও বিশ্লেষণ চলছে।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট মহলে বহুমুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে প্রার্থীর নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী একে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বিরোধীরা একে ধর্মীয় মঞ্চের রাজনৈতিক অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করছেন। যুবদলের এই নেতার এমন প্রকাশ্য জনসংযোগের বিপরীতে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিধিভঙ্গের অভিযোগ না আসলেও নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ অনুভূত হচ্ছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রার্থনার এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে তা আগামী দিনের নির্বাচনী পরিবেশকে আরও বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে, যাতে কোনো প্রার্থী ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল মাঠের পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে। পরিশেষে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই, অন্যথায় স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো তাদের মূল গণতান্ত্রিক রূপ হারাতে পারে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনার পূর্বধলায় ধর্মীয় জমায়েতে রাজনৈতিক প্রচারের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক বা বিভ্রান্তিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও স্থানীয় নাগরিক সেবা নিয়ে জর্জরিত, তখন প্রার্থীরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্মীয় আবেগ কতটা নিজেদের পক্ষে টানতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। নির্বাচনী হাওয়া গায়ে লাগাতে গিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি এবং ধর্মীয় পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখা প্রতিটি রাজনৈতিক নেতার নৈতিক দায়িত্ব হওয়া উচিত, যা বর্তমান বাস্তবতায় বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। পরিশেষে, স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা হলো প্রার্থীরা যেন ধর্মের লেবাস ব্যবহার না করে নিজেদের কাজের যোগ্যতা, সততা এবং জনকল্যাণমূলক এজেন্ডার ওপর ভিত্তি করে ভোটারদের মন জয় করার সংস্কৃতি গড়ে তোলেন।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator